
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি | ইব্রাহিম হাওলাদার
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে কর্মরত হাজারো নৌ-শ্রমিকের। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানি থেকে ছুটি না পাওয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার নৌ-শ্রমিক তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
কর্ণফুলী নদীতে চলাচলরত লাইটারেজ জাহাজ, অয়েল ট্যাঙ্কার, বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের দিনেও অনেক জাহাজে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে পিরোজপুর, বরিশাল, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা নৌ-শ্রমিকরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না।
নৌ-শ্রমিকদের ভাষ্য,
“আমরা সারা বছর নদীতেই থাকি। ভেবেছিলাম ভোটের দিন অন্তত বাড়ি গিয়ে পরিবারসহ ভোট দেব। কিন্তু মালিকপক্ষ থেকে এখনো কোনো ছুটির ঘোষণা নেই। আমাদের ১৫ হাজার মানুষের ভোট কি এভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে?”
শ্রমিকদের অভিযোগ, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নাগরিক হিসেবে তাদের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার—ভোট দেওয়া—প্রতিবারই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন সচেতন নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কর্ণফুলী নদীতে অবস্থানরত এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিক ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌ-শ্রমিকদের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
নৌ-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা নৌ-পরিবহন সেক্টরের জন্য বিশেষ নির্বাচনকালীন ছুটির ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতো নৌ-শ্রমিকরাও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

Reporter Name 


















