
ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ দেলোয়ার হোসেন
চট্টগ্রামের এশিয়ান টিভির সাবেক ব্যুরো প্রধান ও বর্তমানে দৈনিক অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ কবিরকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় আহমেদ কবিরের পরিবার ও সহকর্মীরা দাবি করেছেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি দেওয়ানি বিরোধ হলেও সেটিকে ফৌজদারি রূপ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার বিচার আদালতেই হওয়া উচিত। তবে গ্রেফতারের সময় যেভাবে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, তা একজন সাংবাদিকের মর্যাদা ও পেশাগত সম্মানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ— সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের মতে, গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রেও যেখানে এমন দৃশ্য কম দেখা যায়, সেখানে একজন সাংবাদিককে এভাবে উপস্থাপন করা অস্বস্তিকর বার্তা দেয়।
এদিকে, গ্রেফতারের পর কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ছাড়াই তড়িঘড়ি করে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্যভিত্তিক ও গভীর অনুসন্ধান জরুরি।
চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি অংশ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু আচরণ সাংবাদিকদের প্রতি কঠোর ও প্রতিকূল মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সাংবাদিক মহলে আক্ষেপের সুর শোনা গেছে— কোনো সাংবাদিক গ্রেফতার হলেই অনুসন্ধান ছাড়া তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা পেশার জন্য ক্ষতিকর বলেই মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

Reporter Name 


















