
মল্লিক এম.আই বুলবুল সোহেল , পাথরঘাটা প্রতিনিধি
গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের পেশাগত ঝুঁকি কমানো এবং সমুদ্রে চলাচলের সময় বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরগুনায় একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Workshop on Promoting Safety Issue for Marine Fisherman’ শীর্ষক এই কর্মশালায় জেলে, ট্রলার মালিক, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সংগ্রাম স্মার্ট প্রকল্পের উদ্যোগে চৌধুরী মাসুম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের সভাকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল গভীর সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা এবং সমুদ্রে মাছ ধরার সময় জেলেরা যেসব বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী মো. মাসুম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নুরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক, বিএফডিসির ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জি এম মাসুদ শিকদার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টেশন কমান্ডার মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি চৌধুরী মো. মোস্তফা এবং বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্থানীয় সাংবাদিক, সমাজকর্মী, ট্রলার মালিক, মাঝি, জেলে এবং জেলে পরিবারের সদস্যরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্রে মাছ ধরার সময়কার নানা ঝুঁকি এবং সেসব ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মুক্ত আলোচনায় জেলেরা জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে তারা প্রায়ই জলদস্যুদের হুমকি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন। অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত যোগাযোগ সুবিধা থাকে না। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বক্তারা বলেন, মৎস্যজীবী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি, জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং জরুরি সংকেত পাঠানোর আধুনিক ডিভাইস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় আরও বলা হয়, জেলেদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে সমুদ্রে দুর্ঘটনা মোকাবিলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বোঝা এবং নিরাপদ নৌযাত্রা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সুরক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করার সুপারিশ করা হয়।
বক্তারা জেলেদের অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে মাছ আহরণ করলে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলেদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি জানান। তারা মনে করেন, সমুদ্রে কর্মরত জেলেদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

Reporter Name 














