গাজীপুর , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পাঁচবিবিতে ৭০ ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, শিক্ষা উপকরণ পেল ২০০ শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবা উদ্ধার: ১০০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ট্রাকচালক আটক বাসন থানার অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচ, গাঁজা ও ডাকাতি মামলার আসামি নওগাঁয় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক, জুয়ায় হেরে গ্রেপ্তার ৬ নবাবগঞ্জে গাছের ডাল পড়ে আরোহীর মৃত্যু, ছেলে গুরুতর আহত পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বাসনে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন সরাইল–নাসিরনগর–লাখাই সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ময়মনসিংহে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ পালিত বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে আকাশ মাহমুদের বহুমুখী পথচলা
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে ত্রাস: বাসন থানায় বগা রিপনের চাঁদাবাজির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৭২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগা রিপন ওরফে রিপন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেকে পুলিশের ঘনিষ্ঠ সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারে প্রভাব বিস্তার এবং জুয়ার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মতো নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বগা রিপন এলাকায় এমন একটি প্রভাব তৈরি করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। অভিযোগ রয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হয়। এ কারণে অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের সোর্স পরিচয়ের আড়ালে তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তার করেন। ফুটপাতের দোকান, লেগুনা স্ট্যান্ড, অটোরিকশা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে থানায় ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকায় জুয়ার বোর্ড পরিচালনা কিংবা এসব কার্যক্রমে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, নিরীহ যুবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাদক সংক্রান্ত ভয় দেখিয়ে কিংবা পুলিশের নাম ব্যবহার করে অনেককে আর্থিকভাবে চাপের মুখে ফেলা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, “তিনি পুলিশের সদস্য নন। কিন্তু এমনভাবে আচরণ করেন, যেন সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে। আমরা ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করি। অযথা ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তাই অনেকেই চুপ থাকেন।”

এ বিষয়ে বাসন থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশে ‘সোর্স’ পরিচয়ে কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ পুলিশের পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায় কিংবা চাঁদাবাজি করে, তাহলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের নাম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই উদ্বেগের নয়, বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে প্রকৃত সত্যও উদঘাটিত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বগা রিপন-এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পাঁচবিবিতে ৭০ ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, শিক্ষা উপকরণ পেল ২০০ শিক্ষার্থী

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে ত্রাস: বাসন থানায় বগা রিপনের চাঁদাবাজির অভিযোগ

Update Time : ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগা রিপন ওরফে রিপন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, নিজেকে পুলিশের ঘনিষ্ঠ সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারে প্রভাব বিস্তার এবং জুয়ার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মতো নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বগা রিপন এলাকায় এমন একটি প্রভাব তৈরি করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। অভিযোগ রয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হয়। এ কারণে অনেকেই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের সোর্স পরিচয়ের আড়ালে তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তার করেন। ফুটপাতের দোকান, লেগুনা স্ট্যান্ড, অটোরিকশা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে থানায় ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকায় জুয়ার বোর্ড পরিচালনা কিংবা এসব কার্যক্রমে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, নিরীহ যুবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাদক সংক্রান্ত ভয় দেখিয়ে কিংবা পুলিশের নাম ব্যবহার করে অনেককে আর্থিকভাবে চাপের মুখে ফেলা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, “তিনি পুলিশের সদস্য নন। কিন্তু এমনভাবে আচরণ করেন, যেন সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে। আমরা ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করি। অযথা ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তাই অনেকেই চুপ থাকেন।”

এ বিষয়ে বাসন থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশে ‘সোর্স’ পরিচয়ে কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ পুলিশের পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায় কিংবা চাঁদাবাজি করে, তাহলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের নাম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই উদ্বেগের নয়, বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে প্রকৃত সত্যও উদঘাটিত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বগা রিপন-এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।