
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল এলাকায় অবস্থিত একটি প্লাস্টিক কারখানাকে ঘিরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী প্লাস্টিক কারখানা হিসেবে পরিচিত এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক কারখানায় এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। শ্রমিকদের দাবি, কারখানার চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মোস্তাকুর আহমেদ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি স্থায়ী শ্রমিকদের চুক্তিভিত্তিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুযোগ না দিয়ে নিজের এলাকার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান। তাদের দাবি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে চট্টগ্রামে শ্রমিক বিক্ষোভ এর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দুই সাংবাদিক। তারা হলেন—দৈনিক সংবাদের বোয়ালখালী উপজেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু এবং দৈনিক পূর্বকোণের বোয়ালখালী উপজেলা প্রতিনিধি পূজন সেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা কারখানার সামনে পৌঁছালে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চান। পরে তাদের নিরাপত্তা কক্ষে বসতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের একটি মিছিল বের হলে তারা ছবি তুলতে যান।
এই সময় হঠাৎ একদল শ্রমিক তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই সাংবাদিক দ্রুত নিরাপত্তা কক্ষে আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় বলে জানা গেছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। হামলায় আহত দেবাশীষ বড়ুয়া রাজুকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, কারখানার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে শ্রমিকদের অসন্তোষ থেকেই এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কারখানায় সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নজর রাখছে।
এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবু আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসন্তোষের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে চট্টগ্রামে শ্রমিক বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Reporter Name 


















