গাজীপুর , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

গাইবান্ধায় সরকারি পাম্পে বাধা, কর্মকর্তা আক্রান্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ Time View

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি বৈদ্যুতিক লাইন ও পানির পাম্প ব্যবহার করে সরকারি সুবিধার কাজে বাধা দেওয়ায় উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান বসনিয়াকে লাঞ্ছিত করার শঙ্কাজনক ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অফিস চলাকালীন সময়ে সংঘটিত এ হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বসনিয়া সাংবাদিকদের জানান, “সাঘাটা উপজেলার কিছু অ্যাম্বুলেন্স মালিক দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা চত্বর দখল করে নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি জায়গা ও সরকারি পানির পাম্প ব্যবহার করে গাড়ি পরিষ্কার এবং পার্কিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমি বিগত দুই বছর থেকে এই অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছি, কিন্তু তারা একবারও কর্ণপাত করেনি। বৃহস্পতিবার তারা আবারও বৈদ্যুতিক লাইন ও সরকারি পাম্প ব্যবহার করে উপজেলা চত্বরের পানি দিয়ে গাড়ি পরিষ্কারের চেষ্টা করলে আমি বাধা দিই। এর উত্তরে অ্যাম্বুলেন্স চালক আশরাফুল ও আলম মিয়া সহ কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালায়। সহকর্মীরা আমার সঙ্গী হলেও আমরা চরম আতঙ্কে পড়ি। স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।”

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্তরা আক্রমণরত অবস্থায় কুৎসিত ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। তাঁরা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “কুত্তার বাচ্চা, শুয়ার বাচ্চা, তোর বাপের কারেন্ট তোর চান্দে মাথা ফেটে দিবো, মাথা ন্যাড়া করে আলকাতরা দিবো।”

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবির জানান, “ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আলম মিয়াকে প্রাথমিকভাবে উপজেলা চত্বর থেকে অ্যাম্বুলেন্স সরানোর জন্য এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারি সম্পদের প্রতি আক্রমণ সংক্রমণযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”

উল্লেখ্য, এ ধরনের ঘটনা শুধু কর্মকর্তার প্রতি নয়, সরকারি সম্পদ ও প্রশাসনের কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাজীপুরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা শওকত হোসেন সরকারের

গাইবান্ধায় সরকারি পাম্পে বাধা, কর্মকর্তা আক্রান্ত

Update Time : ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি বৈদ্যুতিক লাইন ও পানির পাম্প ব্যবহার করে সরকারি সুবিধার কাজে বাধা দেওয়ায় উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান বসনিয়াকে লাঞ্ছিত করার শঙ্কাজনক ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অফিস চলাকালীন সময়ে সংঘটিত এ হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বসনিয়া সাংবাদিকদের জানান, “সাঘাটা উপজেলার কিছু অ্যাম্বুলেন্স মালিক দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা চত্বর দখল করে নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি জায়গা ও সরকারি পানির পাম্প ব্যবহার করে গাড়ি পরিষ্কার এবং পার্কিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমি বিগত দুই বছর থেকে এই অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছি, কিন্তু তারা একবারও কর্ণপাত করেনি। বৃহস্পতিবার তারা আবারও বৈদ্যুতিক লাইন ও সরকারি পাম্প ব্যবহার করে উপজেলা চত্বরের পানি দিয়ে গাড়ি পরিষ্কারের চেষ্টা করলে আমি বাধা দিই। এর উত্তরে অ্যাম্বুলেন্স চালক আশরাফুল ও আলম মিয়া সহ কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালায়। সহকর্মীরা আমার সঙ্গী হলেও আমরা চরম আতঙ্কে পড়ি। স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।”

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্তরা আক্রমণরত অবস্থায় কুৎসিত ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। তাঁরা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “কুত্তার বাচ্চা, শুয়ার বাচ্চা, তোর বাপের কারেন্ট তোর চান্দে মাথা ফেটে দিবো, মাথা ন্যাড়া করে আলকাতরা দিবো।”

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবির জানান, “ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আলম মিয়াকে প্রাথমিকভাবে উপজেলা চত্বর থেকে অ্যাম্বুলেন্স সরানোর জন্য এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারি সম্পদের প্রতি আক্রমণ সংক্রমণযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”

উল্লেখ্য, এ ধরনের ঘটনা শুধু কর্মকর্তার প্রতি নয়, সরকারি সম্পদ ও প্রশাসনের কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।