
১২৫ বছরের বন্ধন, আগামী দিনের গ্রন্থন — কালীগঞ্জে তুমিলিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের বর্ণিল জয়ন্তী উৎসব
মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তুমিলিয়া বালিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১২৫ বছর পূর্তি (জয়ন্তী) উৎসব অত্যন্ত উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘১২৫ বছরের বন্ধন, আগামী দিনের গ্রন্থন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজনটি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পবিত্র খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আনন্দ র্যালি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে ওঠে। অনুষ্ঠানকালে জয়ন্তী ফলক ও জুবিলি ম্যাগাজিন উন্মোচন করা হয়।
প্রধান অতিথি, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ (ওএমআই) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন ১২৫ বছর পার করে, তখন তা শুধু একটি দালান নয়, বরং জনপদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে, সমাজ গঠনে অবদান রেখেছে এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও এটি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ার কারিগর হবে।”
বিশেষ অতিথি, গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ ভূঁইয়া বলেন,
“মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি। তুমিলিয়া বালিকা বিদ্যালয় নারী শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে গত সোয়া শতাব্দী ধরে যে ভূমিকা রেখেছে, তা অতুলনীয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেয়া।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম
প্রাণ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইলিয়াস মৃধা
ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের সহকারী বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম রহমান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সকালের অধিবেশনে ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে কুরআন, গীতা ও বাইবেল পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধান অতিথি প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তির পায়রা ও গ্যাস বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
বিকেলের সাংস্কৃতিক পর্বে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নাচ, গান, থিম সং, ‘মহুয়া সুন্দরী’ নৃত্যনাট্য, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও লটারি ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়ানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী তৃষিতা এসএমআরএ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি লাকী ফ্লোরেন্স কোড়াইয়া জানান,
“এই আয়োজন বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

Reporter Name 



















