
মল্লিক জামাল প্রতিনিধি
বরগুনার তালতলী উপজেলায় অভিমানের জেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গভীর রাতে ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিহত তরুণীর নাম লামিয়া। তিনি উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে। প্রায় ১০ মাস আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে আরিফ বিল্লাহর সঙ্গে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা ছিল যে, লামিয়ার বাবা মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তোলা হবে। তবে সেই সিদ্ধান্তের আগেই স্বামীর পরিবার তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিয়ের সময় উপহার হিসেবে ছেলেকে একটি স্বর্ণের আংটি এবং মেয়েকে একটি নাকফুল দেওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকেই লামিয়া গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। অন্যদিকে, স্বামীর পরিবারের দাবি, গত এক মাস ধরে আরিফ বিল্লাহর সঙ্গে লামিয়ার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
অসুস্থ অবস্থায় লামিয়াকে দ্রুত তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথে পটুয়াখালী এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী আরিফ বিল্লাহ জানান, তাদের পারিবারিক বিয়ে হলেও লামিয়া তাকে পছন্দ করতেন না এবং সংসার করতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যৌতুক দাবি করা হয়নি। রমজান মাসে লামিয়া বাবার বাড়িতে চলে গেলে পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের খবর পান তিনি।
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে দুঃখ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা আবারও সামনে চলে এসেছে।

Reporter Name 


















