
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে মোট এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৪টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, নগরজুড়ে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই বিভিন্ন থানা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৯ জন, চাঁদাবাজির অভিযোগে একজন এবং জুয়া খেলার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরও আটজনকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এখান থেকে এক লাখ ৮০ হাজার ২৫টি ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এছাড়া কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে তিন হাজার ইয়াবা, বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে ৬০০টি, আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে ৫০টি এবং বন্দর থানা এলাকা থেকে নয়টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব মাদক স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়মতো অভিযান পরিচালনার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএমপি সূত্র আরও জানায়, মাদকমুক্ত নগর গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা পেলে অপরাধ দমন আরও সহজ হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Reporter Name 


















