গাজীপুর , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

চট্টগ্রাম বন্দরে রুশ যুদ্ধজাহাজের শুভেচ্ছা সফর

  • Reporter Name
  • Update Time : ৩ ঘন্টা আগে
  • ১৯ Time View

চট্টগ্রাম বন্দরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজের আগমন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে। চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ার আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘রেজকি’ ও ‘সোভারচেনি’ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এ সফরকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে রাশিয়ান নৌবাহিনী” উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছানোর সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও নাবিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত, মিলিটারি, এয়ার ও নেভাল অ্যাটাশে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ‘রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ সফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাহাজ দুটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের প্রটোকল অনুযায়ী অভ্যর্থনা জানায়। এই আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা দুই দেশের সামরিক সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাশিয়ান নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক এবং রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, এরিয়া সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডকইয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাশিয়ান নাবিকরা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অবস্থিত রাশিয়ান নাবিক ইউভি রেডকিনের সমাধিস্থল ‘রেডকিন পয়েন্টে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এটি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়াও, রাশিয়ান কর্মকর্তা ও নাবিকরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ও জাহাজ পরিদর্শন করবেন এবং চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। একই সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও রাশিয়ান জাহাজসমূহ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দক্ষতা বিনিময়ে সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সফর শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, এই শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চার দিনের এই সফর শেষে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘রেজকি’ ও ‘সোভারচেনি’ আগামী ২৭ মার্চ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চট্টগ্রাম বন্দরে রুশ যুদ্ধজাহাজের শুভেচ্ছা সফর

Update Time : ৩ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রাম বন্দরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজের আগমন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে। চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ার আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘রেজকি’ ও ‘সোভারচেনি’ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এ সফরকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে রাশিয়ান নৌবাহিনী” উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছানোর সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও নাবিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত, মিলিটারি, এয়ার ও নেভাল অ্যাটাশে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ‘রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ সফর বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাহাজ দুটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের প্রটোকল অনুযায়ী অভ্যর্থনা জানায়। এই আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা দুই দেশের সামরিক সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাশিয়ান নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক এবং রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, এরিয়া সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডকইয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাশিয়ান নাবিকরা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অবস্থিত রাশিয়ান নাবিক ইউভি রেডকিনের সমাধিস্থল ‘রেডকিন পয়েন্টে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এটি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়াও, রাশিয়ান কর্মকর্তা ও নাবিকরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ও জাহাজ পরিদর্শন করবেন এবং চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। একই সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও রাশিয়ান জাহাজসমূহ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দক্ষতা বিনিময়ে সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সফর শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, এই শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চার দিনের এই সফর শেষে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘রেজকি’ ও ‘সোভারচেনি’ আগামী ২৭ মার্চ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।