গাজীপুর , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী ট্যাংকার, পথে আরও ৪ জাহাজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার বন্দরে ভিড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে জাহাজটি কুতুবদিয়া উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর প্রায় ১০ দিনের মধ্যে এটিই প্রথম ডিজেলবাহী ট্যাংকার যা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জাহাজের আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। কারণ দেশের পরিবহন, কৃষি এবং শিল্পখাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে জ্বালানির সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

শিপিং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও চারটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পৌঁছাবে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টনের বেশি পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে।

চারটি জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।

শিপিং এজেন্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার রাতেই প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার আগামী শনিবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এর বড় অংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পাঁচটি ট্যাংকারে যে পরিমাণ ডিজেল আসছে তা দিয়ে স্বাভাবিক হিসাবে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে মজুত বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে দৈনিক সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নতুন আসা ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিদ্যমান মজুত এবং নতুন চালান মিলিয়ে দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে প্রায় এক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির থাকলেও আপাতত জ্বালানি সংকটের বড় কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো ট্যাংকার আসা অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি মজুত বাড়ানো এবং বিকল্প উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী ট্যাংকার, পথে আরও ৪ জাহাজ

Update Time : ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার বন্দরে ভিড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে জাহাজটি কুতুবদিয়া উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর প্রায় ১০ দিনের মধ্যে এটিই প্রথম ডিজেলবাহী ট্যাংকার যা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জাহাজের আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। কারণ দেশের পরিবহন, কৃষি এবং শিল্পখাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে জ্বালানির সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

শিপিং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও চারটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পৌঁছাবে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টনের বেশি পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে।

চারটি জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।

শিপিং এজেন্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার রাতেই প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার আগামী শনিবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এর বড় অংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পাঁচটি ট্যাংকারে যে পরিমাণ ডিজেল আসছে তা দিয়ে স্বাভাবিক হিসাবে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে মজুত বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে দৈনিক সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নতুন আসা ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিদ্যমান মজুত এবং নতুন চালান মিলিয়ে দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে প্রায় এক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির থাকলেও আপাতত জ্বালানি সংকটের বড় কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো ট্যাংকার আসা অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি মজুত বাড়ানো এবং বিকল্প উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।