
চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচার সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সময় দেশের জনগণ যখন আতঙ্কিত ছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত মুক্তিযুদ্ধে নতুন প্রেরণা যোগ করে এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। তাই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, শহীদ জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা জানাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, “১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান জাতির গৌরবের অংশ। এই দুই দিক যথাযথভাবে সংরক্ষণে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রকে একটি পর্যটন এবং শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
চট্টগ্রামের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরব সংরক্ষণের এই উদ্যোগ দেশের জন্য একটি শিক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণামূলক প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই স্মৃতি জাদুঘর, ভাস্কর্য এবং ঐতিহাসিক সরঞ্জামগুলো পর্যাপ্তভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

Reporter Name 


















