
রাজশাহীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ দাসকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই দুদকের মামলা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোস্তফা পাভেল রায়হান এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসেন।
দুদক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১৪ মে গোদাগাড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালতের রায়ে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় তাকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় আরও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গোদাগাড়ী পৌর সদরের সরমঙ্গলা একতা মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন আব্দুল বাতেন নামে এক ব্যক্তি। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তৎকালীন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ দাস তার কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে অভিযোগকারী বাধ্য হয়ে প্রথমে ৭ হাজার টাকা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি দুদকের রাজশাহী জেলা কার্যালয়কে জানানো হলে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে বাকি ৮ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় দুদকের উপ-পরিচালক মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল তাকে হাতে-নাতে আটক করে।
এই রাজশাহী দুর্নীতি মামলা এখন স্থানীয় প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি দপ্তরে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে এমন রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Reporter Name 


















