গাজীপুর , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পূবাইল চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও, এলাকায় তোলপাড় মসজিদে সেজদায় বৃদ্ধ মুসল্লি খুন, শ্রীমঙ্গলে ঘাতক আটক রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও কর্মসূচি ঘোষণা নগরকান্দায় স্বর্ণালংকার চুরি: সালিস নিয়ে অপপ্রচার হবিগঞ্জে গণমাধ্যম দিবসে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে বিজিবি অভিযান: ভারতীয় বিস্কুট ও চানাচুরসহ বিপুল পণ্য আটক অস্ট্রেলিয়া চাকরি প্রতারণায় ৬০ লাখ আত্মসাৎ, গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন কুড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন, দেশব্যাপী ক্রীড়া উদ্যোগ শুরু পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন
ভোটের হাওয়া

মামলা ছাড়াই থানায় ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ Time View

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় কোনো মামলা ছাড়াই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন এবং পরে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নাইওর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শহরের কায়রান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান নাইওর বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেল মোবাইল ফোনে তাকে থানায় ডেকে নেন। থানায় পৌঁছানোর পর তাকে ওসি মো. সাইফুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তার শ্বশুরের জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নাক না গলাতে’ বলা হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে ওসি তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে গালে চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় কানু দাশ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার শ্বশুর শরিফত উল্লা (৬২) ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মো. খলিল আহমদের মধ্যে সম্পত্তি বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

কামরুল হাসান নাইওর জানান, তাকে থানায় হেনস্তা করে লকআপে রাখা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, তার ৬ বছর বয়সী সন্তান অসুস্থ রয়েছে এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তবে তার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

পরে রাত ১২টার পর ১৪ জানুয়ারি তার শ্বশুরের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে খলিল মিয়াকে থানায় ডেকে এনে ৩১ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারির কথিত ঝগড়ার অভিযোগ দেখিয়ে দ্রুত একটি মামলা রুজু করা হয় এবং তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে—১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ তিনি রাত ১০টা ৭ মিনিটে থানায় প্রবেশ করেন, যার সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। একই দিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় কামরুল হাসান নাইওর বাদী হয়ে মৌলভীবাজার ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম ও এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৪০/২৬।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

পূবাইল চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও, এলাকায় তোলপাড়

মামলা ছাড়াই থানায় ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ

Update Time : ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় কোনো মামলা ছাড়াই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন এবং পরে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নাইওর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শহরের কায়রান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান নাইওর বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেল মোবাইল ফোনে তাকে থানায় ডেকে নেন। থানায় পৌঁছানোর পর তাকে ওসি মো. সাইফুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তার শ্বশুরের জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নাক না গলাতে’ বলা হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে ওসি তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে গালে চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় কানু দাশ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার শ্বশুর শরিফত উল্লা (৬২) ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মো. খলিল আহমদের মধ্যে সম্পত্তি বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

কামরুল হাসান নাইওর জানান, তাকে থানায় হেনস্তা করে লকআপে রাখা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, তার ৬ বছর বয়সী সন্তান অসুস্থ রয়েছে এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তবে তার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

পরে রাত ১২টার পর ১৪ জানুয়ারি তার শ্বশুরের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে খলিল মিয়াকে থানায় ডেকে এনে ৩১ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারির কথিত ঝগড়ার অভিযোগ দেখিয়ে দ্রুত একটি মামলা রুজু করা হয় এবং তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে—১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ তিনি রাত ১০টা ৭ মিনিটে থানায় প্রবেশ করেন, যার সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। একই দিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় কামরুল হাসান নাইওর বাদী হয়ে মৌলভীবাজার ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম ও এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৪০/২৬।