গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

মামলা ছাড়াই থানায় ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২ Time View

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় কোনো মামলা ছাড়াই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন এবং পরে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নাইওর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শহরের কায়রান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান নাইওর বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেল মোবাইল ফোনে তাকে থানায় ডেকে নেন। থানায় পৌঁছানোর পর তাকে ওসি মো. সাইফুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তার শ্বশুরের জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নাক না গলাতে’ বলা হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে ওসি তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে গালে চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় কানু দাশ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার শ্বশুর শরিফত উল্লা (৬২) ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মো. খলিল আহমদের মধ্যে সম্পত্তি বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

কামরুল হাসান নাইওর জানান, তাকে থানায় হেনস্তা করে লকআপে রাখা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, তার ৬ বছর বয়সী সন্তান অসুস্থ রয়েছে এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তবে তার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

পরে রাত ১২টার পর ১৪ জানুয়ারি তার শ্বশুরের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে খলিল মিয়াকে থানায় ডেকে এনে ৩১ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারির কথিত ঝগড়ার অভিযোগ দেখিয়ে দ্রুত একটি মামলা রুজু করা হয় এবং তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে—১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ তিনি রাত ১০টা ৭ মিনিটে থানায় প্রবেশ করেন, যার সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। একই দিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় কামরুল হাসান নাইওর বাদী হয়ে মৌলভীবাজার ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম ও এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৪০/২৬।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

মামলা ছাড়াই থানায় ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ

Update Time : ১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় কোনো মামলা ছাড়াই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন এবং পরে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নাইওর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শহরের কায়রান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান নাইওর বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেল মোবাইল ফোনে তাকে থানায় ডেকে নেন। থানায় পৌঁছানোর পর তাকে ওসি মো. সাইফুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তার শ্বশুরের জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নাক না গলাতে’ বলা হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে ওসি তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে গালে চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় কানু দাশ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার শ্বশুর শরিফত উল্লা (৬২) ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মো. খলিল আহমদের মধ্যে সম্পত্তি বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

কামরুল হাসান নাইওর জানান, তাকে থানায় হেনস্তা করে লকআপে রাখা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, তার ৬ বছর বয়সী সন্তান অসুস্থ রয়েছে এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তবে তার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন।

পরে রাত ১২টার পর ১৪ জানুয়ারি তার শ্বশুরের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে খলিল মিয়াকে থানায় ডেকে এনে ৩১ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারির কথিত ঝগড়ার অভিযোগ দেখিয়ে দ্রুত একটি মামলা রুজু করা হয় এবং তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে—১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ তিনি রাত ১০টা ৭ মিনিটে থানায় প্রবেশ করেন, যার সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। একই দিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় কামরুল হাসান নাইওর বাদী হয়ে মৌলভীবাজার ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম ও এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৪০/২৬।