
মোঃ ইলিয়াছ খান সালথা উপজেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা এবং সচেতনতা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে সালথা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।
র্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ও বক্তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইমরানুর রহমান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শওকত আকবরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং হালদা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং কখনো কখনো ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। এসব দুর্যোগ মানুষের জীবন ও সম্পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে আগাম প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং সচেতনতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবার পর্যায় পর্যন্ত দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়াতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন ও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা দুর্যোগ মোকাবেলায় তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
শেষে বক্তারা বলেন, সরকারের পাশাপাশি জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি দুর্যোগ-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। এ ধরনের দিবস পালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতির গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই নতুন করে ভাবার সুযোগ পায়।

Reporter Name 


















