গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

লাখাইয়ে গৃহবধূ ও ৩ সন্তানের বিষপান, আশঙ্কামুক্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৩ Time View

স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও স্বামীর অবহেলার কারণে তিন সন্তানসহ এক গৃহবধূ বিষপানের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ায় মা ও সন্তানরা এখন আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দুপুরে উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামে। বিষপানকারী গৃহবধূর নাম আছমা বেগম। তার তিন সন্তান হলো তানিয়া আক্তার (৭), তাহমিনা (৩) এবং ছয় মাস বয়সী শিশু তানভীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আছমা বেগমের সঙ্গে তার স্বামী কামাল মিয়ার পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কামাল মিয়া সংসারের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতেন না। পাশাপাশি তিনি মাদক সেবন ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব কারণে আছমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সন্তানদের নিয়ে কষ্টের জীবনযাপন করছিলেন।

এ অবস্থায় হতাশ হয়ে আছমা বেগম প্রথমে তার তিন সন্তানকে বিষপান করান। পরে নিজেও বিষপান করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মা ও তিন সন্তান চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পর স্বামী কামাল মিয়া হাসপাতালে এসে তাদের দেখে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনা আবারও পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়া এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা জরুরি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

লাখাইয়ে গৃহবধূ ও ৩ সন্তানের বিষপান, আশঙ্কামুক্ত

Update Time : ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও স্বামীর অবহেলার কারণে তিন সন্তানসহ এক গৃহবধূ বিষপানের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ায় মা ও সন্তানরা এখন আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দুপুরে উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামে। বিষপানকারী গৃহবধূর নাম আছমা বেগম। তার তিন সন্তান হলো তানিয়া আক্তার (৭), তাহমিনা (৩) এবং ছয় মাস বয়সী শিশু তানভীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আছমা বেগমের সঙ্গে তার স্বামী কামাল মিয়ার পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কামাল মিয়া সংসারের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতেন না। পাশাপাশি তিনি মাদক সেবন ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব কারণে আছমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সন্তানদের নিয়ে কষ্টের জীবনযাপন করছিলেন।

এ অবস্থায় হতাশ হয়ে আছমা বেগম প্রথমে তার তিন সন্তানকে বিষপান করান। পরে নিজেও বিষপান করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মা ও তিন সন্তান চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পর স্বামী কামাল মিয়া হাসপাতালে এসে তাদের দেখে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনা আবারও পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়া এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা জরুরি।