
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানকে ঘিরে একটি বিএনপি নেতার মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, সাধারণ জনগণ এবং সচেতন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে কয়েকজন ব্যক্তিকে একটি কক্ষে বসে মাদকসদৃশ কিছু সেবন করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি গ্যাস লাইট জ্বালিয়ে দিচ্ছেন এবং অপর দুই ব্যক্তি ধোঁয়া টানছেন। স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান।
এছাড়া ভিডিওতে যে কক্ষটি দেখা যাচ্ছে, সেটি গোপীনাথপুর হাট অফিস বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে আক্কেলপুরে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও বিষয়টি এখনো যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অপু বলেন, বিষয়টি তিনি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জেলা ও উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দের নজরে এসেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সাইদুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের মতে, যদি ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিওর ভিত্তিতে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে এলাকাবাসীর নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে। তদন্ত শেষ হলে ভিডিওটির সত্যতা এবং অভিযোগের বাস্তবতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Reporter Name 


















