
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় প্রবাসীকে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। “মীরসরাই হামলা অপহরণ” এবং “প্রবাসী হামলা মামলা” নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ সালমান (৩০)। তিনি এই মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি। সোমবার (২৩ মার্চ) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মীরসরাই থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইশতিয়াক রুবেল জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সালমানকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সঙ্গে তার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জমিতে তিনি প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নির্মাণ কাজ দেখতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার পিঠে আঘাত করা হয় এবং ডান গালে ঘুষি মেরে জখম করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে তুলে অপহরণ করা হয় এবং হাদি ফকিরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এদিকে, “প্রবাসী হামলা মামলা” নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Reporter Name 


















