গাজীপুর , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও ড্রেন-খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ২২ ঘন্টা আগে
  • ৩৪ Time View

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ জোরদার করতে ড্রেন ও মজা খাল পরিষ্কার এবং মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক উম্মে ইমামা বানিন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার জন্মস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার এবং মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় এডালটিসাইড ও লার্ভিসাইড স্প্রে ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে যেসব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। এতে করে মশার লার্ভা ধ্বংস হবে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল হাকিম খান, সাবেক সদস্য সচিব, উপজেলা বিএনপি; মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া, চেয়ারম্যান ও সাবেক সদস্য সচিব উপজেলা বিএনপি; এবং মোঃ হাফিজুর রহমান, সভাপতি প্রেসক্লাব। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, টায়ার, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

তারা আরও বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ কারণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচি শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ধারাবাহিকভাবে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার, খাল পুনরুদ্ধার এবং মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় ড্রেন ও খাল পরিষ্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রব বেড়েছিল। নিয়মিত পরিষ্কার অভিযান চালানো হলে এলাকার পরিবেশ উন্নত হবে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে।

উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলে ফরিদপুর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও ড্রেন-খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু

Update Time : ২২ ঘন্টা আগে

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ জোরদার করতে ড্রেন ও মজা খাল পরিষ্কার এবং মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক উম্মে ইমামা বানিন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার জন্মস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার এবং মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় এডালটিসাইড ও লার্ভিসাইড স্প্রে ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে যেসব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। এতে করে মশার লার্ভা ধ্বংস হবে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল হাকিম খান, সাবেক সদস্য সচিব, উপজেলা বিএনপি; মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া, চেয়ারম্যান ও সাবেক সদস্য সচিব উপজেলা বিএনপি; এবং মোঃ হাফিজুর রহমান, সভাপতি প্রেসক্লাব। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, টায়ার, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

তারা আরও বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ কারণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচি শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ধারাবাহিকভাবে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার, খাল পুনরুদ্ধার এবং মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় ড্রেন ও খাল পরিষ্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রব বেড়েছিল। নিয়মিত পরিষ্কার অভিযান চালানো হলে এলাকার পরিবেশ উন্নত হবে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে।

উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলে ফরিদপুর উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।