
মোঃ দিদারুল ইসলাম, পেকুয়া (কক্সবাজার) থেকেঃ
কক্সবাজার, ১২ জুন: প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে কক্সবাজার, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যেও এ সফর নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চকরিয়া উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই খালটি এলাকার কৃষি, সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাতলী খালের পুনঃখনন শেষ হলে অন্তত দুই লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমে আসবে। এলাকাবাসী সেখানে একটি স্মৃতিপার্ক নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এলাকায় প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। পরে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের খোঁজখবর নেবেন। এ সময় রাষ্ট্রীয় সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা, মাতামুহুরী উপজেলা এবং মাতামুহুরী থানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। স্থানীয়দের মতে, এসব প্রশাসনিক ইউনিট চালু হলে জনগণ আরও দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পাবে।
এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক বৃহৎ জনসভায় বক্তব্য দেবেন। জনসভায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জনসভা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এবং সমুদ্রসৈকত এলাকায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। পর্যটন খাতের বিকাশ, উপকূলীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তিনি পর্যালোচনা করবেন।
সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে বিশিষ্ট নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পর্যটন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, সফরটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে কক্সবাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, কৃষি খাত এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।

Reporter Name 


















