
সাংবাদিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ীতে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নির্মাণাধীন ঘরে বাধা, নির্মাণ সামগ্রী লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক, যিনি ‘স্বাধীন বাংলা নিউজ’-এর সাব-এডিটর এবং মধুপুর-ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা অথবা ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানায়।
চাঁদা না দেওয়ায় তার নির্মাণাধীন বসতঘরের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেখানে কর্মরত মিস্ত্রিদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং নির্মাণসামগ্রী লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টার দিকে। সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক তার নিজস্ব জমিতে বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খুঁটি ও কাঠ দিয়ে ঘরের কাঠামো তৈরির পর টিন ছাউনির কাজ চলছিল। ঠিক সেই সময় একটি দল সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে।
অভিযুক্তরা তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে, তিনি যেন তাদের দাবি অনুযায়ী ২ শতাংশ জমি লিখে দেন অথবা ১০ লাখ টাকা চাঁদা প্রদান করেন। তারা দাবি করে, ওই জমি তাদের আত্মীয়দের ছিল এবং কম দামে বিক্রি হয়েছে।
সাংবাদিক রাজ্জাক এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে নির্মাণস্থলে থাকা ৮–৯ জন কাঠমিস্ত্রির ওপর হামলা চালায়। এতে মিস্ত্রিরা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নির্মাণ সামগ্রী লুট ও পুনরায় হুমকি
ঘটনার পরদিন আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় তারা নির্মাণাধীন ঘর থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের টিন, কাঠ এবং লোহা-লক্করসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।
সকালবেলা বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে অভিযুক্তদের কাছে কারণ জানতে চান। তখন অভিযুক্তরা উল্টো তাকে হুমকি দেয় এবং চুরির দায় স্বীকার করে দম্ভোক্তি করে।
প্রধান অভিযুক্ত সেলিম হোসেন বলেন, তিনি তাদের কথা না শোনায় এই ক্ষতি করা হয়েছে। অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছৃঙ্খল এবং সহিংস প্রকৃতির।
জমির বৈধ মালিকানা দাবি
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ধনবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বৈধ সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে তিনি নামজারি এবং বিএসআরএস রেকর্ড সম্পন্ন করে নিয়মিতভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি দাবি করেন, জমিটি বৈধভাবে কেনা হলেও একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করছে এবং চাঁদা দাবি করছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
স্থানীয় পরিস্থিতি ও মামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের পরিবারের সদস্যরাও অতিষ্ঠ। তাদের আচরণের কারণে আগেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।
এছাড়া জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইল আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের আপন বড় বোন ও ভাইয়ের মেয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এই ঘটনার পর “ধনবাড়ী সাংবাদিক চাঁদাবাজি” এবং “টাঙ্গাইল চাঁদা দাবি মামলা” বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিকের নিরাপত্তা সংকট
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি জানান, প্রকাশ্যে হুমকি ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিক মহলও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা ও চাঁদাবাজি মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য বড় হুমকি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এলাকাবাসী ও সাংবাদিক সমাজ যৌথভাবে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তারা বলছেন, অপরাধীরা যদি দ্রুত শাস্তির আওতায় না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

Reporter Name 
















