গাজীপুর , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নওগাঁয় ব্র্যাক প্রাইজ প্রকল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি ধনবাড়ীতে ৫ বছরে ১২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু: নলুয়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা নাসিরনগরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃ/ত্যু ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটার সমস্যায় পল্লী বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমে গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সিভিল টিমের চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জে বনভূমি দখল অভিযোগে লাল মিয়া বিতর্কে তোলপাড়

দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮২ Time View

গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ এনে বদলির ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ করেছেন গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক মাহমুদা বেগম।

মাহমুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বদলির হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জানানো হয়—তিনি যদি ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন, তবে তাকে আর বদলি করা হবে না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও প্রত্যাহার করা হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রথমে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতির চাপে তিনি প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩ হাজার টাকা—মোট ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাকি ৪৫ হাজার টাকা তিনি গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের হাতে নগদে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন।

মাহমুদা বেগম জানান, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক আব্দুল মতিন জানেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ঘুষ গ্রহণ করেছেন শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদার। এছাড়াও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদার সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করলেও নিয়মিত জ্বালানি খরচ উত্তোলন করেন। এছাড়া তিনি দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন এবং সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে।

হাতিমারা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব বলেন, “শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদার সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলব।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য এমনকি নারী কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তসাপেক্ষ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

নওগাঁয় ব্র্যাক প্রাইজ প্রকল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ

দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার

Update Time : ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ এনে বদলির ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ করেছেন গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক মাহমুদা বেগম।

মাহমুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বদলির হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জানানো হয়—তিনি যদি ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন, তবে তাকে আর বদলি করা হবে না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও প্রত্যাহার করা হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রথমে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতির চাপে তিনি প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩ হাজার টাকা—মোট ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাকি ৪৫ হাজার টাকা তিনি গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের হাতে নগদে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন।

মাহমুদা বেগম জানান, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক আব্দুল মতিন জানেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ঘুষ গ্রহণ করেছেন শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদার। এছাড়াও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদার সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করলেও নিয়মিত জ্বালানি খরচ উত্তোলন করেন। এছাড়া তিনি দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন এবং সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে।

হাতিমারা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব বলেন, “শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদার সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলব।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য এমনকি নারী কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তসাপেক্ষ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।