গাজীপুর , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পাঁচবিবিতে ৭০ ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, শিক্ষা উপকরণ পেল ২০০ শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবা উদ্ধার: ১০০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ট্রাকচালক আটক বাসন থানার অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচ, গাঁজা ও ডাকাতি মামলার আসামি নওগাঁয় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক, জুয়ায় হেরে গ্রেপ্তার ৬ নবাবগঞ্জে গাছের ডাল পড়ে আরোহীর মৃত্যু, ছেলে গুরুতর আহত পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বাসনে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন সরাইল–নাসিরনগর–লাখাই সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ময়মনসিংহে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ পালিত বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে আকাশ মাহমুদের বহুমুখী পথচলা
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে প্রথমবার অংশ নিয়েই এমপি ৫ জন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি আসনে নতুন মুখের জয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই পাঁচজন প্রার্থী সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ—এই তিন অঞ্চল মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসনে ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন।

যাঁরা প্রথমবারেই বিজয়ী

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক):

বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪৭,০৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পান ৪৬,৫৮৯ ভোট। বিজয়ের পর তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং):

বিএনপির সাঈদ আল নোমান ১,২২,৯৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পান প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। নির্বাচনী প্রচারে পরিবেশ সংরক্ষণ, সংস্কৃতি চর্চা ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি নগরবাসীর সমর্থন পান।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া):

বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ১,০১,০৪৫ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী পান ৪১,৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ):

সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয় এই আসনে। বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ ৭৬,৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৭৫,৪৬৭ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১,০২৬ ভোট। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, তবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবারই প্রথম।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী):

জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৮৯,৯৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী পান ৮২,২৩৭ ভোট। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও উল্লেখযোগ্য ভোট পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোট বিভাজন এ আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবার অংশ নিয়ে পাঁচ প্রার্থীর বিজয় চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটাররা স্থানীয় বাস্তবতা, উন্নয়ন প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলেই এই ফলাফল এসেছে।

নতুন প্রজন্মের এই নেতৃত্ব আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পাঁচবিবিতে ৭০ ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, শিক্ষা উপকরণ পেল ২০০ শিক্ষার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে প্রথমবার অংশ নিয়েই এমপি ৫ জন

Update Time : ১০:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি আসনে নতুন মুখের জয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই পাঁচজন প্রার্থী সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ—এই তিন অঞ্চল মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসনে ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন।

যাঁরা প্রথমবারেই বিজয়ী

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক):

বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪৭,০৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পান ৪৬,৫৮৯ ভোট। বিজয়ের পর তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং):

বিএনপির সাঈদ আল নোমান ১,২২,৯৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পান প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। নির্বাচনী প্রচারে পরিবেশ সংরক্ষণ, সংস্কৃতি চর্চা ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি নগরবাসীর সমর্থন পান।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া):

বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ১,০১,০৪৫ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী পান ৪১,৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ):

সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয় এই আসনে। বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ ৭৬,৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৭৫,৪৬৭ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১,০২৬ ভোট। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, তবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবারই প্রথম।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী):

জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৮৯,৯৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী পান ৮২,২৩৭ ভোট। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও উল্লেখযোগ্য ভোট পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোট বিভাজন এ আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবার অংশ নিয়ে পাঁচ প্রার্থীর বিজয় চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটাররা স্থানীয় বাস্তবতা, উন্নয়ন প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলেই এই ফলাফল এসেছে।

নতুন প্রজন্মের এই নেতৃত্ব আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।