
জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসের হাতে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।
২০১৯ সালে ফরিদুল তার পত্রিকায় প্রকাশিত “টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি” শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে, ব্যক্তিগত আক্রোশে ওসি প্রদীপ ছয়টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে ঢাকা থেকে তুলে এনে তিনি পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা চেষ্টাও চালান।
ফরিদুলের অভিযোগ, টানা ১১ মাস ৫ দিন সাজানো মামলায় কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হলেও মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মামলার খরচ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ফরিদুলের জন্য তারা দফায় দফায় মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। পরিবারও মামলা প্রত্যাহারের তাগিদ জানিয়েছেন।
মামলার দীর্ঘ স্থগিত ও বিচারবঞ্চনার কারণে ফরিদুলের আর্থিক পরিস্থিতিও ক্রমশ শোচনীয় হচ্ছে। পিবিআইকে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, গত ৬ বছর ধরে তা হাইকোর্টে জমা হয়নি। পাশাপাশি ডিজিটাল পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনও পুলিশের অজুহাতে স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফরিদুল মোস্তফা খান জানান, “মামলার বোঝা আর সইতে পারছি না। আমার ও পরিবারের জীবন নিরাপদ করার দাবি করছি, কিন্তু প্রশাসন এখনো নীরব।”
স্থানীয় সাংবাদিক ও ফরিদুলের পরিবার অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আটকে রাখা পাসপোর্ট উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Reporter Name 


















