
মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ মোট ছয় দফা দাবিতে তারা এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি সোমবারও অব্যাহত থাকে, ফলে চমেক হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ডা. ইরফানুর রহমান জানান, তাদের চলমান কর্মসূচি এখনো ধারাবাহিকভাবে চলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছে, যারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। আলোচনার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরাও সোমবার থেকে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। এতে করে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ আরও বেড়ে গেছে।
যদিও জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে, তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে সেবা প্রদানের গতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি, সম্প্রতি জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দিতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন দ্রুত প্রণয়ন এবং তা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে সীমিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়ায় কর্মবিরতি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হলেও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন সবার নজর রয়েছে ঢাকায় চলমান আলোচনার ফলাফলের দিকে।

Reporter Name 
















