গাজীপুর , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
দারুত তাকওয়া ক্যাডেট মাদ্রাসায় ফল উৎসব, স্বাস্থ্য সচেতনতা রাজশাহীর মোহনপুরে ভয়াবহ মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ জন রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে চোলাইমদসহ পলাতক আসামি গ্রেফতার চার নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত এএসপি আল ফাহাদ নরসিংদীর শিবপুরে প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফট স্কিল প্রশিক্ষণ উদ্বোধন দোয়ারাবাজারে আনজুমানে আল ইসলাহ সম্মেলন, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান সাইকেলে দেশভ্রমণে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনায় তরুণ মোবাশ্বের আলী কালিহাতী বিএনপির সভাপতি হিসেবে শাহ আলমকে চান নেতাকর্মীরা বেগমগঞ্জে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ যুবক আটক, অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
ভোটের হাওয়া

চট্টগ্রামে হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যু: নেই হাম পরীক্ষার ল্যাব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯ Time View

চট্টগ্রামে আবারও হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে আসা শিশুটির বয়স ছিল ৯ মাসের কম। এ নিয়ে চট্টগ্রামে হাম উপসর্গে মোট দুই শিশুর মৃত্যু হলো, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শিশুটি প্রথমে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে একই হাসপাতালে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যার বয়স ছিল ছয় মাসের কম।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, মৃত শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কারণ চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের জন্য কোনো ল্যাব নেই। ফলে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত আটজনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ বাড়লেই চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ঢাকায় পাঠাতে হয়। বিশেষ করে হাম পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় দ্রুত রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল ও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। ফলে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এদিকে, আগুনে পোড়া রোগীদের জন্যও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। বার্ন ইউনিটে আইসিইউ বা উন্নত চিকিৎসা না থাকায় গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে আধুনিক হাসপাতাল ও উন্নত ল্যাব স্থাপন জরুরি। এতে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। না হলে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দারুত তাকওয়া ক্যাডেট মাদ্রাসায় ফল উৎসব, স্বাস্থ্য সচেতনতা

চট্টগ্রামে হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যু: নেই হাম পরীক্ষার ল্যাব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Update Time : ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে আবারও হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে আসা শিশুটির বয়স ছিল ৯ মাসের কম। এ নিয়ে চট্টগ্রামে হাম উপসর্গে মোট দুই শিশুর মৃত্যু হলো, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শিশুটি প্রথমে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে একই হাসপাতালে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যার বয়স ছিল ছয় মাসের কম।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, মৃত শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কারণ চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের জন্য কোনো ল্যাব নেই। ফলে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত আটজনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ বাড়লেই চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ঢাকায় পাঠাতে হয়। বিশেষ করে হাম পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় দ্রুত রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল ও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। ফলে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এদিকে, আগুনে পোড়া রোগীদের জন্যও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। বার্ন ইউনিটে আইসিইউ বা উন্নত চিকিৎসা না থাকায় গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে আধুনিক হাসপাতাল ও উন্নত ল্যাব স্থাপন জরুরি। এতে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। না হলে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।