
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
পবিত্র রমজান মাস শেষের পথে। সামনে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল। নগরজুড়ে চলছে চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, আতর এবং টুপি কিনতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
নগরের নিউ মার্কেট, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, বহদ্দারহাট, ষোলশহর, আগ্রাবাদ ও সিইপিজেড এলাকায় প্রতিদিনই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান—সবখানেই বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ঈদ বোনাস পাওয়ার পর থেকে বাজারে ক্রেতার চাপ আরও বেড়েছে।
নগরের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি দোকান রয়েছে। এখান থেকে শুধু চট্টগ্রাম নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলার খুচরা ব্যবসায়ীরাও পণ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি টেরিবাজারে ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত শাড়ি, লেহেঙ্গা, গাউন ও প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি অনেক ভালো। ফলে ব্যবসাও জমে উঠেছে।
এবারের ঈদ বাজারে পাকিস্তান, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের তৈরি পোশাক, মেয়েদের থ্রি-পিস, জুতা এবং শিশুদের ফ্যাশন সামগ্রীর চাহিদা বেশি। ভারতীয় পোশাকের দাম ৫ হাজাঔর থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল ও কাঞ্জিলাল শাড়িও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
তবে অতিরিক্ত ক্রেতার কারণে নগরের নিউ মার্কেট, জুবিলী রোড, স্টেশন রোড, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও বহদ্দারহাট এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
ঈদের বাজারে চোর চক্র সক্রিয়
ঈদের কেনাকাটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনাও বেড়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আরিফ হোসেন (৩০) ও মো. রুবেল (৩৫)। পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে ১২টি থ্রি-পিস, তিনটি লেহেঙ্গা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পোশাকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
দেশীয় হাতেবোনা টুপির চাহিদা বেশি
ঈদের নামাজকে ঘিরে নগরের আতর ও টুপির দোকানগুলোতেও ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এবার দেশীয় হাতেবোনা টুপি ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও চকবাজার এলাকায় টুপি ও আতরের দোকানে ভিড় বাড়ছে। দোকান ঘুরে দেখা গেছে শতাধিক ডিজাইনের টুপি পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে তৈরি হাতেবোনা টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানান, এসব টুপির দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও হাটহাজারী ছাড়াও বগুড়া, ময়মনসিংহ ও বরিশাল থেকে এসব টুপি আসে। এগুলোর মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এছাড়া বাজারে পাকিস্তানি, মালয়েশিয়ান, আফগানি, কাশ্মীরি ও তুর্কি টুপিও পাওয়া যাচ্ছে। কাশ্মীরি টুপির দাম ৬০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত।
আতরের দোকানেও ক্রেতার ভিড়
ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আতরের দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের আতরের পাশাপাশি সিলেটের অর্গানিক উদ আতরও বিক্রি হচ্ছে। অনেক তরুণ স্প্রে করা যায় এমন আধুনিক আতর কিনছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, মস্ক, উড ও অ্যাম্বার ঘ্রাণের আতর দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয় বলে এগুলোর চাহিদা বেশি।
ফুটপাতে নতুন টাকার জমজমাট বাজার
ঈদকে সামনে রেখে নতুন টাকার চাহিদাও বেড়েছে। তবে ব্যাংকে পর্যাপ্ত নতুন নোট না থাকায় নগরের বিভিন্ন ফুটপাতে নতুন টাকার অস্থায়ী বাজার গড়ে উঠেছে।
নিউ মার্কেট মোড়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশপাশ, সিডিএ ভবনের সামনে এবং আগ্রাবাদ এলাকায় নতুন নোট বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। অতিরিক্ত টাকা দিলেই ক্রেতারা ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নোট কিনতে পারছেন।
বিক্রেতারা জানান, ১০ টাকার নোটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ঈদের সময় জাকাত, সালামি ও উপহার দেওয়ার জন্য অনেকেই নতুন নোট কিনে থাকেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে নতুন নোটের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। উৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো নগরী।

Reporter Name 

















