
এনামুল হক রাশেদী চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান সিআইপির বাসভবনে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিশেষ অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি এসএমজি এবং দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে দুটি বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নগরীর দামপাড়া মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়। সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় আবদুল কাউয়ুম চৌধুরী ইমনকে। তিনি আলোচিত ‘এইট মার্ডার’ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত।
ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কাছ থেকে ৯ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে চকবাজার থানা পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, এই পিস্তলটি পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
পরে ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মনির ও সায়েম নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মনিরের কাছ থেকে ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে সায়েমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি এসএমজি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত ২ মার্চ সকালে সাবেক এমপি ও শিল্পপতি মুজিবুর রহমান সিআইপির চন্দনপুরস্থ বাসভবন লক্ষ্য করে যে ব্রাশফায়ারের ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল এই এসএমজি। ওই ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুজিবুর রহমান বাসায় গুলি চালানোর ঘটনা মূলত চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছিল। সন্ত্রাসীরা ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে এই চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। এতে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি চক্রটির সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয়, অস্ত্রের উৎস এবং তাদের অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে নগরীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে তারা স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

Reporter Name 















