
গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নেসলে কারখানায় সংঘর্ষ ঘটেছে। শ্রমিক সরবরাহ ও ঝুট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থিত নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এবং একে অপরকে ধাওয়া করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর শ্রমিক সরবরাহ বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। কারখানার ঝুট ব্যবসা এবং শ্রমিক সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়। এর আগে একাধিকবার উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।
মঙ্গলবার সকালে এক পক্ষ শ্রমিক নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এলে অন্য পক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে আশপাশের শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে কয়েকজন শ্রমিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গাজীপুর জেলা যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নজরুল শেখ অভিযোগ করেন, তিনি জাহাঙ্গীর সিকদার ও জনিসহ চারজন দীর্ঘদিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমতি নিয়ে শ্রমিক সরবরাহের কাজ পরিচালনা করে আসছেন। মঙ্গলবার সকালে তারা শ্রমিক নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকে গেলে সালাউদ্দীন সরকারের অনুসারীরা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
তিনি দাবি করেন, এক পর্যায়ে সালাউদ্দীনের লোকজন তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তাদের চারজন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে রনি শেখ নামে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালাউদ্দীন সরকারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইউনুস আলী নছ মিয়া ভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় নজরুল শেখ ও জাহাঙ্গীরের লোকজন অবৈধভাবে শ্রমিক সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কারখানার কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আবির ফারুক, মিরাজ, মনির হোসেন ও রনি শেখ। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক সরবরাহ ও ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই এমন বিরোধ দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিরোধ দ্রুত সমাধান না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

Reporter Name 


















