
সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন
গাজীপুর মহানগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের বাসন এলাকায় জমি জবর দখল এবং তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মনজুর আলম সরকারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মনজুর আলম সরকার, যিনি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর গাজীপুর জেলা ক্রাইম রিপোর্টার এবং বাসন মেট্রো থানা প্রেসক্লাবের গাজীপুর মহানগরী শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, তার শশুর বাড়ির জমি ও স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে এই হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলায় জড়িত মূল অভিযুক্তরা হলো ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী মোঃ শামীম, তার সহযোগী মোঃ দেলোয়ার এবং মোঃ হামিদ। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মোঃ শামীমের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মাদক মামলা চলছে এবং আগে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন, বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মনজুর আলম সরকার তার শশুরবাড়ি ও স্ত্রীর নামে থাকা জমির সীমানা পিলার উচ্ছেদ এবং জমি দখলের চেষ্টা দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে ছবি ও ভিডিও করতে শুরু করে এবং সাংবাদিককে বাধা দেয়। এরপর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা হঠাৎ করে সহিংসভাবে সাংবাদিকের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। হামলার ফলে সাংবাদিক গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত সাংবাদিককে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যাতে প্রধান ৩ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাসন থানার কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এবং সাংবাদিক মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তারা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সাংবাদিকতা কার্যক্রমে বাধা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে সতর্কবার্তা যে, যারা আইনের শাসনকে ধ্বংস করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জরুরি।

Reporter Name 


















