
ঈদের রাতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছে কুমিল্লা। কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে উদ্ধার কাজ শেষ হলে আজ রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন সচল করার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে আবারও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়, ফলে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নমত। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, গেট সঠিকভাবে বন্ধ না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে যায়। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বাস চালকের অসতর্কতা বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে আরও দুটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুইজন গেটকিপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কম সময়ের মধ্যেই রেললাইন সচল করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর তদারকি ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।

Reporter Name 

















