
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি মোঃ সবুজ হোসেন
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার শিমলারোকনপুর গ্রামের বাওড় এলাকায় অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরিমানা করলেও কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমলারোকনপুর বাওড় এলাকায় মোঃ সাহাবউদ্দিন হোসেন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এই কাজ দিনের পরিবর্তে রাতে বেশি করা হয় যাতে সহজে ধরা না পড়ে। ফলে এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, অবৈধভাবে বাওড় থেকে মাটি কাটার কারণে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং অনেক জমি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কগুলো ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ভেঙে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া রাতভর ট্রাক্টর ও ডাম্পারের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ঘুমাতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, মাটি কাটার বিষয়ে বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তিনি কাজ করছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ কার্যক্রম।
কয়েকদিন আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানা দেওয়ার পরও শিমলারোকনপুর বাওড়ে মাটি উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু জরিমানা নয়, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এই অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তারা মনে করেন, নিয়মিত নজরদারি না থাকায় এসব কার্যক্রম আবার শুরু হচ্ছে।
একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “আমাদের জমির পাশ থেকে প্রতিদিন মাটি কাটা হচ্ছে। এতে জমি ভেঙে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন আসলেও কিছুদিন বন্ধ থাকে, পরে আবার শুরু হয়।”
আরেকজন বাসিন্দা জানান, “রাতে ঘুমানো যায় না ট্রাক্টরের শব্দে। ধুলাবালিতে ঘরবাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।”
এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, শুধু জরিমানা নয়, যারা এই কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে এলাকাবাসী বলছেন, কেবল অভিযান নয়, নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটা এবং শিমলারোকনপুর বাওড়ে মাটি উত্তোলন এখন একটি বড় পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Reporter Name 

















