
শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে মনিটরিং ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জ্বালানি তেল বিপণন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (তারিখ অনুযায়ী) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজা। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি তেলের সরবরাহ, মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা।
পরিদর্শনকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্টেশনগুলোর জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি, বিক্রয় কার্যক্রম, মূল্য তালিকা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে তারা তেল সরবরাহ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা সমস্যা রয়েছে কি না তাও জানার চেষ্টা করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্টেশন মালিকদের স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, সরকার নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্য তালিকা মেনে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সরাসরি মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কালিহাতীতে ফিলিং স্টেশন মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকির ফলে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেল দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই এর সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণে প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিতভাবে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করছি। কোনো স্টেশন যদি নিয়ম ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেল পরিদর্শন কালিহাতী এলাকায় নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। এতে করে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল পাবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত মনিটরিং থাকলে জ্বালানি তেল বিক্রিতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে না।
সব মিলিয়ে, কালিহাতী উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এই তদারকি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Reporter Name 


















