
মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ভয়াবহ বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ভেল্লাপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুতগতির বাসের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবোঝাই লেগুনাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হন সজীব হোসেন (২৬)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। তিনি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের খুরাইশ চৌধুরীবাড়ির নূর হোসেনের ছেলে।
এর আগে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তারা হলেন পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দুলা মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ (৫৩), আশিয়াশ ইউনিয়নের মবিনুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৬) এবং পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দখীল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে হারুনুর রশিদ (৫১)।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, কর্ণফুলী থানাধীন ভেল্লাপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে সজীব হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেগুনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা মহাসড়কে কঠোর নজরদারি ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Reporter Name 















