
মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য অবৈধ ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। এসব ইটভাটা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২০ সালে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।
রিট আবেদনের শুনানি শেষে একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট চট্টগ্রাম জেলার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেন। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, পরিবেশের ক্ষতি করে পরিচালিত সব অবৈধ ইটভাটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে যথাযথ অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২১ সালে এইচআরপিবি আদালতে একটি সম্পূরক আবেদন করে। সেখানে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়ার দাবি তোলা হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয় এবং ২০২১ সালের ১৩ জুন আদালতে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
সে সময় তৎকালীন জেলা প্রশাসক আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অবশিষ্ট ইটভাটাগুলো দ্রুত বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগে বন্ধ করা অনেক অবৈধ ইটভাটা আবারও চালু হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি আবারও বেড়ে গেছে।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলায় ৩৮টি ইটভাটার মধ্যে ৩৭টিরই কোনো লাইসেন্স নেই। অর্থাৎ অধিকাংশ ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
শুধু লোহাগড়া নয়, জেলার সাতকানিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ আরও কয়েকটি উপজেলায় শত শত অবৈধ ইটভাটা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে চালু রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমির ক্ষতি এবং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার কাছে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
নোটিশে জেলা প্রশাসককে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সরাসরি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কৃষিজমি নষ্ট হওয়া, বায়ু দূষণ বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের মতো সমস্যার জন্য এসব ইটভাটা দায়ী। তাই আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো না হলে পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়বে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অমান্য হলে প্রশাসনের জবাবদিহিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

Reporter Name 









