
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে গড়াচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক তেলবাজারে নাটকীয় পতন ঘটে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে পড়ে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দেয়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানবে। ইরানের সংসদ স্পিকার ও সামরিক বাহিনী কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “ফলপ্রসূ আলোচনা” হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মূল ধারা। প্রণালির অচল হওয়ার কারণে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, যা দাম বাড়ার প্রধান কারণ। পাঁচ দিনের স্থগিতাদেশের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ৯৬ ডলারে নেমে আসে এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট(WTI) ৮৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। এতে বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।
ইরান কিছু জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের মাধ্যমে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ দেখাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়, রেশনিং এবং সরকারি ছুটি কার্যকর করেছে। International Energy Agency সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট কিংবা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যে তুরস্ক ও মিসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে ইরান এখনও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অস্বীকার করছে। বর্তমানে তিনটি সম্ভাবনা স্পষ্ট—আলোচনা সফল হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে, ব্যর্থ হলে বড় সামরিক সংঘাত হতে পারে, অথবা দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সংকটে ফেলবে। বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—এই পাঁচ দিনের বিরতি কি শান্তির পথ খুলবে, নাকি বড় সংঘাতের পূর্বাভাস?

Reporter Name 


















