
বীর মুক্তিযোদ্ধার জমির জাল দলিল করে দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আব্দুস সামাদপা টগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমি উদ্ধারে মামলা করায় প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছোবাহানী ভূইয়া।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম ছোবাহানী ভূইয়া বলেন, দলিলমূলে ক্রয় করা তার জমি প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। জমি উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করার পর থেকে দুষ্কৃতিকারী লোকজন দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং খুন-জখম করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফফার বলেন, “১৯৯৬ সালে ওই এলাকার নাবালকের উপযুক্ত অভিভাবক হিসেবে সতিশ চন্দ্র রায় আমার কাছে ৬২ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে ওই জমির মধ্যে থেকে ১৫ শতক জমি আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছোবাহানীর কাছে বিক্রি করি। প্রায় ২৩ বছর পর সগেন্দ্র নাথ ও শড়ী নারায়ন চন্দ্র রায় ওই জমি দখল করেছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সগেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “১৯৯৮ সালে সতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলের কাছ থেকে আমি ৩৮ শতক জমি কিনেছি এবং তখন থেকেই দখলে আছি। আমি কারো জমি দখল করিনি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট এলাকার আব্দুল গফফারের কাছ থেকে ১৫ শতক জমি দলিলমূলে কিনে দখলে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছোবাহানী ভূইয়া। প্রায় এক বছর আগে একই এলাকার সগেন্দ্র নাথ ও নারায়ন চন্দ্র রায় ওই জমি জোরপূর্বক বেদখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জমি উদ্ধারে ভূমি আইনে লালমনিরহাট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ছোবাহানী ভূইয়া বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

Reporter Name 









