গাজীপুর , মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

বিরামপুরে অপহরণের পর ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি আটক, চাঞ্চল্যকর ঘটনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ৩ ঘন্টা আগে
  • ২০ Time View

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে অপহরণের পর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের কুর্শাখালি-ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ নাদিরা বেগম (৪৮) তার মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে মোছাঃ গুলছানা আক্তার ঝরনা (৩২)-এর ওপর সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ফুলবাড়ী উপজেলার তেতুঁল ডাঙ্গা এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৯) কৌশলে ভিকটিমকে ফুসলিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি “বিরামপুরে অপহরণ” হিসেবে দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিকটিমকে বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগড়াছড়া এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সেখানে সে ভিকটিমের ওপর ধর্ষণচেষ্টা চালায়।

তবে স্থানীয়দের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে। এতে এলাকাবাসীর সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে।

কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তের ৩-৪ জন সহযোগী ঘটনাস্থলে এসে জোরপূর্বক তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তারা উপস্থিত লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সাক্ষী কুহিলির ভাই আলিফকে মারধর করে আহত করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এই পুরো ঘটনাটি “ধর্ষণচেষ্টা” হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনগণ দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী একজন নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জাজনক এবং অমানবিক।

বিরামপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে পুনরায় আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করছে। ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমে আসবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিরামপুরে অপহরণের পর ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি আটক, চাঞ্চল্যকর ঘটনা

Update Time : ৩ ঘন্টা আগে

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে অপহরণের পর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের কুর্শাখালি-ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ নাদিরা বেগম (৪৮) তার মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে মোছাঃ গুলছানা আক্তার ঝরনা (৩২)-এর ওপর সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ফুলবাড়ী উপজেলার তেতুঁল ডাঙ্গা এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৯) কৌশলে ভিকটিমকে ফুসলিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি “বিরামপুরে অপহরণ” হিসেবে দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিকটিমকে বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগড়াছড়া এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সেখানে সে ভিকটিমের ওপর ধর্ষণচেষ্টা চালায়।

তবে স্থানীয়দের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে। এতে এলাকাবাসীর সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে।

কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তের ৩-৪ জন সহযোগী ঘটনাস্থলে এসে জোরপূর্বক তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তারা উপস্থিত লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সাক্ষী কুহিলির ভাই আলিফকে মারধর করে আহত করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এই পুরো ঘটনাটি “ধর্ষণচেষ্টা” হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনগণ দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী একজন নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জাজনক এবং অমানবিক।

বিরামপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে পুনরায় আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করছে। ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমে আসবে।