গাজীপুর , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পূবাইল চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও, এলাকায় তোলপাড় মসজিদে সেজদায় বৃদ্ধ মুসল্লি খুন, শ্রীমঙ্গলে ঘাতক আটক রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও কর্মসূচি ঘোষণা নগরকান্দায় স্বর্ণালংকার চুরি: সালিস নিয়ে অপপ্রচার হবিগঞ্জে গণমাধ্যম দিবসে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে বিজিবি অভিযান: ভারতীয় বিস্কুট ও চানাচুরসহ বিপুল পণ্য আটক অস্ট্রেলিয়া চাকরি প্রতারণায় ৬০ লাখ আত্মসাৎ, গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন কুড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন, দেশব্যাপী ক্রীড়া উদ্যোগ শুরু পীরগঞ্জে ৩.৫ কোটি টাকায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন উদ্বোধন
ভোটের হাওয়া

বাসাইলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিজ ঘরেই শ্বাসরোধে নিহত বৃদ্ধ দম্পতি।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭ Time View

দিনমজুর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ লুট স্বর্ণ ও নগদ অর্থ। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখেটাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ঘটে গেছে এক লোমহর্ষক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। রাতের আঁধারে নিজ বসতঘরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। হত্যার পর ঘর থেকে লুট করা হয়েছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার।এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া আতঙ্ক এবং তীব্র ক্ষোভ।নিহতরা হলেন বাসাইল উপজেলার গোসাখালী গ্রামের বাসিন্দা ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)। বুধবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় জমিতে কাজ করানোর জন্য করটিয়া এলাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন দিনমজুর শ্রমিককে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠান্ডু মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সেই শ্রমিকরাই গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে পালিয়ে গেছে।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান ঘটনার রাতে শ্রমিকরা ওই বাড়িতেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ঠান্ডু মিয়া পেটে ব্যথার কথা জানালে তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। সকালে দম্পতি ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে ঘরে ঢুকে দেখা যায় দু’জনই বিছানায় নিথর পড়ে আছেন এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নাতির চোখে রাতের বিভীষিকা নিহত দম্পতির নাতি জানান ঘটনার রাতে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।তিনি বলেন রাতে দেখি শ্রমিকরা বারবার ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঢুকছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করি। তারা বলে,দাদার পেটে ব্যথা। আমি বিশ্বাস করে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি বাড়িতে মানুষের ভিড়। ঘরে ঢুকে দেখি দাদু-দাদির গলায় দাগ—উড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেনওরা ঠান্ডা মাথায় আমার দাদা-দাদিকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। লুটের অভিযোগ এলাকায় আতঙ্ক স্থানীয়দের অভিযোগ হত্যার পর ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত শ্রমিকরা। যে ঘর ছিল নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক সেই ঘরেই এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন দিনমজুর শ্রমিকের হাতে মালিক দম্পতির এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। পুলিশি অভিযান অব্যাহত ।পুলিশ জানায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

পূবাইল চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও, এলাকায় তোলপাড়

বাসাইলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিজ ঘরেই শ্বাসরোধে নিহত বৃদ্ধ দম্পতি।

Update Time : ০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দিনমজুর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ লুট স্বর্ণ ও নগদ অর্থ। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখেটাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ঘটে গেছে এক লোমহর্ষক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। রাতের আঁধারে নিজ বসতঘরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। হত্যার পর ঘর থেকে লুট করা হয়েছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার।এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া আতঙ্ক এবং তীব্র ক্ষোভ।নিহতরা হলেন বাসাইল উপজেলার গোসাখালী গ্রামের বাসিন্দা ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)। বুধবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় জমিতে কাজ করানোর জন্য করটিয়া এলাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন দিনমজুর শ্রমিককে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন ঠান্ডু মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সেই শ্রমিকরাই গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে পালিয়ে গেছে।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান ঘটনার রাতে শ্রমিকরা ওই বাড়িতেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ঠান্ডু মিয়া পেটে ব্যথার কথা জানালে তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। সকালে দম্পতি ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে ঘরে ঢুকে দেখা যায় দু’জনই বিছানায় নিথর পড়ে আছেন এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নাতির চোখে রাতের বিভীষিকা নিহত দম্পতির নাতি জানান ঘটনার রাতে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।তিনি বলেন রাতে দেখি শ্রমিকরা বারবার ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঢুকছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করি। তারা বলে,দাদার পেটে ব্যথা। আমি বিশ্বাস করে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি বাড়িতে মানুষের ভিড়। ঘরে ঢুকে দেখি দাদু-দাদির গলায় দাগ—উড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেনওরা ঠান্ডা মাথায় আমার দাদা-দাদিকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। লুটের অভিযোগ এলাকায় আতঙ্ক স্থানীয়দের অভিযোগ হত্যার পর ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত শ্রমিকরা। যে ঘর ছিল নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক সেই ঘরেই এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন দিনমজুর শ্রমিকের হাতে মালিক দম্পতির এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। পুলিশি অভিযান অব্যাহত ।পুলিশ জানায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।