
মাহবুব হোসেন মেজর, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (৮ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২ হাজার ৫৫০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়গ্রাম সীমান্ত এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালিত হয় ফুলবাড়ী ২৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামানের নির্দেশনায়।
অভিযান চলাকালে বড়গ্রাম সীমান্তের বিভিন্ন সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলো জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, সীমান্তে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফুলবাড়ী ২৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বলেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা কার্যক্রমও শক্তিশালী করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মাদক ও চোরাচালান পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই আটক করা সম্ভব হচ্ছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মাদক চোরাচালান দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাই সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং নিয়মিত অভিযান মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে বিজিবি জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং সন্দেহজনক কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।

Reporter Name 


















