
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে কালিয়াকৈর পর্যটন কেন্দ্র ও বিভিন্ন বিনোদন রিসোর্টের ওয়াটার পুলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর ও মধ্যপাড়া এলাকার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও রিসোর্টে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন রিসোর্টে আসছেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলের পানিতে মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। অনেক জায়গায় পুলে এত বেশি মানুষ ছিল যে পানিতে নামার জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে। শিশু, কিশোর, তরুণ এবং বয়স্ক—সব বয়সী মানুষকেই পানিতে নেমে গরম থেকে স্বস্তি নিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তাই পরিবারকে নিয়ে তিনি একটি ওয়াটার পুলে এসেছেন। কিছু সময় পানিতে থাকার পর স্বস্তি অনুভব করছেন বলেও জানান তিনি।
তবে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক বিনোদন কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি পুলে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেশি মানুষ গোসল করছেন। এতে পানির মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অধিকাংশ স্থানে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই। অনেক শিশু সাঁতার না জেনেও গভীর পানিতে নামছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি রিসোর্টের এক কর্মী জানান, তাপপ্রবাহের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আসছেন। সীমিত জনবল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত ভিড় থাকা পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাল সংক্রমণ এবং চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে অপরিচ্ছন্ন পানি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পুল ব্যবহারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে গোসল করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মেডিকেল কর্মকর্তা বলেন, তীব্র গরমে বাইরে অবস্থান করলে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রয়োজন হলে স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন কালিয়াকৈর পর্যটন কেন্দ্র ও বিভিন্ন ওয়াটার পুলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Reporter Name 








