গাজীপুর , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে বৃষ্টি ভালোবাসি কবিতা: তাছলিমা মুক্তার হৃদয়ছোঁয়া প্রকৃতি প্রেম লালমনিরহাট শিশু হত্যা: দ্রুত বিচার দাবি ত্রাণমন্ত্রীর ময়মনসিংহে এসডিজি ও পরিসংখ্যান সক্ষমতা বৃদ্ধির সেমিনার অনুষ্ঠিত হোমনায় সংবাদ প্রকাশে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ঠাকুরগাঁও জব ফেয়ারে সিভি জমা দিয়ে মিলছে চাকরির সুযোগ মাদক সেবনের কথিত ভিডিওতে আক্কেলপুরে চা”ঞ্চ’ল্য, তদন্ত দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাফিক অভিযানে হেলমেট সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার ঠাকুরগাঁও টাঙ্গন নদীতে স্কুল ছাত্র নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার কালাকৈরে মতবিনিময় সভা শেষে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রশাসক

ঠাকুরগাঁওয়ে গম শস্য গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি, অধিক লাভের আশায় কৃষকদের ঝোঁক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৪৩ Time View

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | মো. আরফান আলী :

ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গম শস্য গো-খাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার ও বিক্রি করা হচ্ছে। জেলার পীরগঞ্জ, লোহাগাড়া, সেনুয়া, নাককাটি, কাতিহার, নেকমরদ, রাণীশংকৈল, জাবরহাট, গোগর, শিবগঞ্জ ও হরিপূরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্যানযোগে গমের কাঁচা ঘাস গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় গম ফসল পাকার আগেই খেতের গম ঘাস আকারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে গম দানা হিসেবে ঘরে তোলার পরিবর্তে কাঁচা অবস্থায় গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার বাড়ছে।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, গম ফসল পরিপক্ব করে বিক্রি করলে এক বিঘা (প্রায় ৫০ শতাংশ) জমি থেকে প্রায় ২২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু একই জমির গম ঘাস হিসেবে দুই দফায় বিক্রি করলে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক গম পাকার জন্য অপেক্ষা না করে আগেই ঘাস হিসেবে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় বাজারে গিনি ঘাস, পারা ঘাস, নেপিয়ার ঘাস ও ভুট্টার ঘাস পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকার পরও দানাদার খাদ্যশস্য গম গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) আলমগীর কবীর বলেন,

“যেটা কৃষক লাভজনক মনে করে, সেটাই তারা উৎপাদন ও ব্যবহার করে।”

এদিকে বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক, কবি ও সাংবাদিক জানান, গম শস্য গো-খাদ্য হিসেবে ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে গম উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে গম নির্ভরশীল বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গম থেকে সুজি, বার্লি, সাগু, আটা ও ময়দাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই গম শস্যের এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে

ঠাকুরগাঁওয়ে গম শস্য গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি, অধিক লাভের আশায় কৃষকদের ঝোঁক

Update Time : ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | মো. আরফান আলী :

ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গম শস্য গো-খাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার ও বিক্রি করা হচ্ছে। জেলার পীরগঞ্জ, লোহাগাড়া, সেনুয়া, নাককাটি, কাতিহার, নেকমরদ, রাণীশংকৈল, জাবরহাট, গোগর, শিবগঞ্জ ও হরিপূরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্যানযোগে গমের কাঁচা ঘাস গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় গম ফসল পাকার আগেই খেতের গম ঘাস আকারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে গম দানা হিসেবে ঘরে তোলার পরিবর্তে কাঁচা অবস্থায় গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার বাড়ছে।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, গম ফসল পরিপক্ব করে বিক্রি করলে এক বিঘা (প্রায় ৫০ শতাংশ) জমি থেকে প্রায় ২২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু একই জমির গম ঘাস হিসেবে দুই দফায় বিক্রি করলে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক গম পাকার জন্য অপেক্ষা না করে আগেই ঘাস হিসেবে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় বাজারে গিনি ঘাস, পারা ঘাস, নেপিয়ার ঘাস ও ভুট্টার ঘাস পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকার পরও দানাদার খাদ্যশস্য গম গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) আলমগীর কবীর বলেন,

“যেটা কৃষক লাভজনক মনে করে, সেটাই তারা উৎপাদন ও ব্যবহার করে।”

এদিকে বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশনের নির্বাহী পরিচালক, কবি ও সাংবাদিক জানান, গম শস্য গো-খাদ্য হিসেবে ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে গম উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে গম নির্ভরশীল বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গম থেকে সুজি, বার্লি, সাগু, আটা ও ময়দাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই গম শস্যের এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।