গাজীপুর , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন কাপ্তাইয়ে বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জব্দ, আটক ২ রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন

  • Reporter Name
  • Update Time : ৫৭ মিনিট আগে
  • ১৬ Time View

মোঃ কামাল হোসেন প্রধান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদীঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে নামাজরত অবস্থায় জাহানারা বেগম (৭৩) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই বিকেলে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজ পড়ছিলেন জাহানারা বেগম। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), একই গ্রামের ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) এবং আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান জানান, হৃদয় মিয়াকে ৯ আগস্ট, কাদির মিয়াকে ৩০ জুলাই এবং আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হৃদয় ও কাদিরের বিরুদ্ধে আগেও পৃথক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু মিয়ার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে জাহানারা বেগমের গলার সোনার চেইন নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার দিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর আসামিরা জাহানারা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। তিনি তখন নামাজরত ছিলেন। হামলার একপর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে আসে। তখন জাহানারা বেগম হামলাকারীদের চিনতে পারেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের বক্তব্য।

পুলিশ জানায়, এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তার গলার সোনার চেইন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

মাধবদীতে জাহানারা বেগম হত্যা মামলার তদন্তে হত্যার পেছনে চুরি ও পরিকল্পিত হামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার সব তথ্য যাচাই হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন, মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেনসহ নরসিংদীর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন

নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন

Update Time : ৫৭ মিনিট আগে

মোঃ কামাল হোসেন প্রধান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদীঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে নামাজরত অবস্থায় জাহানারা বেগম (৭৩) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই বিকেলে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজ পড়ছিলেন জাহানারা বেগম। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), একই গ্রামের ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) এবং আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান জানান, হৃদয় মিয়াকে ৯ আগস্ট, কাদির মিয়াকে ৩০ জুলাই এবং আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হৃদয় ও কাদিরের বিরুদ্ধে আগেও পৃথক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু মিয়ার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে জাহানারা বেগমের গলার সোনার চেইন নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার দিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর আসামিরা জাহানারা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। তিনি তখন নামাজরত ছিলেন। হামলার একপর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে আসে। তখন জাহানারা বেগম হামলাকারীদের চিনতে পারেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের বক্তব্য।

পুলিশ জানায়, এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তার গলার সোনার চেইন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

মাধবদীতে জাহানারা বেগম হত্যা মামলার তদন্তে হত্যার পেছনে চুরি ও পরিকল্পিত হামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার সব তথ্য যাচাই হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন, মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেনসহ নরসিংদীর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।