গাজীপুর , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ অভিযোগে থানায় তরুণীর লিখিত অভিযোগ কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্র্যাকের দুধ উৎপাদন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হলো সালথায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান উদ্যোগে শান্তির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন নকলা উপজেলায় দুধ উৎপাদন ও গাভী পালন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আন্দারমানিক পশ্চিম পাড়ায় মাদক অভিযোগে উত্তেজনা ও আলোচনা পীরগঞ্জে গ্রাম আদালত সেবা ও জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত দারুত তাকওয়া ক্যাডেট মাদ্রাসায় ফল উৎসব, স্বাস্থ্য সচেতনতা রাজশাহীর মোহনপুরে ভয়াবহ মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ জন রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে চোলাইমদসহ পলাতক আসামি গ্রেফতার চার নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা
ভোটের হাওয়া

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ অভিযোগে থানায় তরুণীর লিখিত অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ৪ ঘন্টা আগে
  • ৪৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক তরুণী। অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়েছে গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোছাঃ রত্না আক্তার (২০) বাসন থানায় একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ সিয়াম হোসেন (২১) নামের এক যুবকের নাম। তিনি গাজীপুরের বাসন থানার ইতাহাটা কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা এবং আলী নামক এক ব্যক্তির ছেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান, ২০২৩ সালে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। একই এলাকায় বসবাসের কারণে সিয়াম হোসেনের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে পরিচয় এবং পরে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস প্রদান করেন বলে দাবি করেন তরুণী।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে স্বামীকে তালাক দেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে সিয়াম তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময় নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন। এমনকি বাসন থানাধীন একটি পার্কে রুম ভাড়া নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তরুণীর অভিযোগ, এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি ব্যবহার করেছেন।

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ৬ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিয়াম হোসেন তাঁকে ফোন করে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন রত্না আক্তার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর তিনি বিয়ের বিষয়ে কথা বললে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী বাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানা গেছে, লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের কাজ করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ অভিযোগে থানায় তরুণীর লিখিত অভিযোগ

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ অভিযোগে থানায় তরুণীর লিখিত অভিযোগ

Update Time : ৪ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক তরুণী। অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়েছে গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোছাঃ রত্না আক্তার (২০) বাসন থানায় একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ সিয়াম হোসেন (২১) নামের এক যুবকের নাম। তিনি গাজীপুরের বাসন থানার ইতাহাটা কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা এবং আলী নামক এক ব্যক্তির ছেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান, ২০২৩ সালে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। একই এলাকায় বসবাসের কারণে সিয়াম হোসেনের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে পরিচয় এবং পরে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস প্রদান করেন বলে দাবি করেন তরুণী।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে স্বামীকে তালাক দেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে সিয়াম তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময় নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন। এমনকি বাসন থানাধীন একটি পার্কে রুম ভাড়া নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তরুণীর অভিযোগ, এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি ব্যবহার করেছেন।

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ৬ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিয়াম হোসেন তাঁকে ফোন করে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন রত্না আক্তার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর তিনি বিয়ের বিষয়ে কথা বললে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী বাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানা গেছে, লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের কাজ করছে।