গাজীপুর , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নাগেশ্বরী পরিবার পরিকল্পনা সেবা: ঈদেও বন্ধ নেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ামতপুরে এমপির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সংস্থার সাক্ষাৎ পাঁচবিবিতে ছাগল নিয়ে বিরোধ: মারধরের অভিযোগে নারী ও মেয়ে আহত আমদিয়ায় সন্ত্রাস-নুরুজ্জামান, প্রাণনাশের চেষ্টা কুসুম্বা মসজিদ: ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন | নওগাঁর গর্ব কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: ১২ নিহত, ৫ ঘণ্টা পর চালু চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইন্সে ঈদ উদযাপন ও প্রীতিভোজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদের জামাতে দল-মতের মানুষের ঢল
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: ১২ নিহত, ৫ ঘণ্টা পর চালু চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ৭ ঘন্টা আগে
  • ১৭ Time View

ঈদের রাতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছে কুমিল্লা। কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে উদ্ধার কাজ শেষ হলে আজ রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন সচল করার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে আবারও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়, ফলে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নমত। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, গেট সঠিকভাবে বন্ধ না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে যায়। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বাস চালকের অসতর্কতা বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে আরও দুটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুইজন গেটকিপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কম সময়ের মধ্যেই রেললাইন সচল করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর তদারকি ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাগেশ্বরী পরিবার পরিকল্পনা সেবা: ঈদেও বন্ধ নেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: ১২ নিহত, ৫ ঘণ্টা পর চালু চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ

Update Time : ৭ ঘন্টা আগে

ঈদের রাতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছে কুমিল্লা। কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে উদ্ধার কাজ শেষ হলে আজ রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন সচল করার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে আবারও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়, ফলে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নমত। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, গেট সঠিকভাবে বন্ধ না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে যায়। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বাস চালকের অসতর্কতা বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে আরও দুটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুইজন গেটকিপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কম সময়ের মধ্যেই রেললাইন সচল করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর তদারকি ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।