
এনামুল হক, ফরিদপুর উপজেলা (পাবনা) প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঈদ বাজার। বিশেষ করে বিলচান্দক জিরে পয়েন্ট এলাকায় এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে চলছে কেনাবেচার ব্যস্ততা। এই ব্যস্ত সময়েই চোখে পড়ার মতো একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে বিলচান্দক ইনসাফ প্রাং এর একটি দোকানে, যেখানে বাবার দোকানে তিন মেয়ের সহায়তা স্থানীয়দের মাঝে দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে তিন মেয়ে তাদের বাবার ব্যবসায় সরাসরি অংশ নিয়েছে। তারা শুধু দোকানে বসেই নেই, বরং সক্রিয়ভাবে ক্রেতাদের পণ্য দেখানো, বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং হিসাব-নিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছে। ফলে ঈদ বাজারের চাপ সামলাতে দোকান মালিকের অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে।
দোকান মালিক জানান, “ঈদের সময় দোকানে প্রচুর ভিড় হয়। একা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু মেয়েরা পাশে থাকায় কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে। তাদের আগ্রহ ও পরিশ্রম আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করছে।”
তিন মেয়ের একজন বলেন, “আমরা ছোট থেকেই বাবার কষ্ট দেখেছি। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে বাবার পাশে দাঁড়ানোকে আমাদের দায়িত্ব মনে করেছি। এতে যেমন বাবার কাজ সহজ হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও ভালো লাগছে।”
স্থানীয় ক্রেতারাও এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ। তারা জানান, বর্তমান সমাজে যেখানে অনেকেই পরিবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে বাবার দোকানে তিন মেয়ের সহায়তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এটি পারিবারিক বন্ধন ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মাঝে পারিবারিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঈদ বাজারের ব্যস্ততার মধ্যেও এই মানবিক ও অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্যটি সবার মন ছুঁয়ে গেছে।

Reporter Name 


















