গাজীপুর , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নাগেশ্বরী পরিবার পরিকল্পনা সেবা: ঈদেও বন্ধ নেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ামতপুরে এমপির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সংস্থার সাক্ষাৎ পাঁচবিবিতে ছাগল নিয়ে বিরোধ: মারধরের অভিযোগে নারী ও মেয়ে আহত আমদিয়ায় সন্ত্রাস-নুরুজ্জামান, প্রাণনাশের চেষ্টা কুসুম্বা মসজিদ: ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন | নওগাঁর গর্ব কুমিল্লা বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: ১২ নিহত, ৫ ঘণ্টা পর চালু চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইন্সে ঈদ উদযাপন ও প্রীতিভোজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদের জামাতে দল-মতের মানুষের ঢল
ভোটের হাওয়া
পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় নাসরিন রহমান পপি শহরের মতো গ্রাম গড়ার অঙ্গীকার আলা উদ্দিনের শ্রীপুরে মাওনা–উজিলাব সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নকলায় এমপির সাথে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল

আমদিয়ায় সন্ত্রাস-নুরুজ্জামান, প্রাণনাশের চেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ৪ ঘন্টা আগে
  • ১৮ Time View

কামাল সরকারঃ

নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সন্ত্রাস ও মাদক চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে এলাকায় পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমদিয়া ইউনিয়নে সন্ত্রাস দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যা নতুন করে প্রকট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নুরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক চক্র গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার ভাই মনির এবং দুই ছেলে শান্ত ও বিজয়।

এলাকাবাসী জানান, এই চক্রটি মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর পরিচালনা, ভূমি দখল এবং নারী পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এসব কার্যক্রমের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদক চক্রের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

জানা গেছে, নুরুজ্জামান পূর্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সেই সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। গত ৫ আগস্টের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি আবার এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বে আমদিয়া ইউনিয়নে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, এই অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এলাকার এক সচেতন যুবক সোহেল। তিনি স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে সোহেলের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। নুরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা ওত পেতে থেকে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। জীবন বাঁচাতে সোহেল নিজ বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সোহেল বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের জানান। পরে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আমদিয়া ইউনিয়নে সন্ত্রাস আরও বাড়তে পারে। তারা মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল মনে করছে, এই ধরনের অপরাধ দমনে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই আমদিয়া ইউনিয়নে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমানে এলাকাবাসী একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা করছে, যেখানে তারা ভয় ছাড়াই বসবাস করতে পারবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাগেশ্বরী পরিবার পরিকল্পনা সেবা: ঈদেও বন্ধ নেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

আমদিয়ায় সন্ত্রাস-নুরুজ্জামান, প্রাণনাশের চেষ্টা

Update Time : ৪ ঘন্টা আগে

কামাল সরকারঃ

নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সন্ত্রাস ও মাদক চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে এলাকায় পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমদিয়া ইউনিয়নে সন্ত্রাস দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যা নতুন করে প্রকট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নুরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক চক্র গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার ভাই মনির এবং দুই ছেলে শান্ত ও বিজয়।

এলাকাবাসী জানান, এই চক্রটি মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর পরিচালনা, ভূমি দখল এবং নারী পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এসব কার্যক্রমের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদক চক্রের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

জানা গেছে, নুরুজ্জামান পূর্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সেই সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। গত ৫ আগস্টের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি আবার এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বে আমদিয়া ইউনিয়নে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, এই অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এলাকার এক সচেতন যুবক সোহেল। তিনি স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে সোহেলের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। নুরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা ওত পেতে থেকে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। জীবন বাঁচাতে সোহেল নিজ বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সোহেল বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের জানান। পরে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আমদিয়া ইউনিয়নে সন্ত্রাস আরও বাড়তে পারে। তারা মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল মনে করছে, এই ধরনের অপরাধ দমনে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই আমদিয়া ইউনিয়নে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বর্তমানে এলাকাবাসী একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা করছে, যেখানে তারা ভয় ছাড়াই বসবাস করতে পারবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে।