গাজীপুর , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

শাহ আউলিয়ারবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হারিয়ে যাওয়া দেশজ সংস্কৃতি প্রদর্শন ও পিঠা উৎসব, মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ Time View

শাহ আউলিয়ারবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হারিয়ে যাওয়া দেশজ সংস্কৃতি প্রদর্শন ও পিঠা উৎসব, মানুষের ঢল

আজিজুল গাজী, জেলা প্রতিনিধি (বাগেরহাট)

বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনের হারিয়ে যেতে বসা স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাগেরহাট জেলার শাহ আউলিয়ারবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে হারিয়ে যাওয়া দেশজ সংস্কৃতি প্রদর্শন ও পিঠা উৎসব, যা একসময় পরিণত হয় ছাত্র–শিক্ষক–অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মিলনমেলায়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মল্লিক শামিম আক্তারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সকল শিক্ষকের আন্তরিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে মোট পাঁচটি স্টল স্থাপন করা হয়। প্রতিটি স্টলের দায়িত্বে ছিলেন একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল। এই যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষক–অভিভাবক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

স্টলগুলোতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা—চিতই, পাটিসাপটা, ভাপা, দুধচিতা, পুলি, নকশি পিঠাসহ নানা ধরনের লোকজ খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি পুরনো দিনের কৃষি উপকরণ, গ্রামীণ আসবাবপত্র ও লোকজ সামগ্রী প্রদর্শিত হয়, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।

আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মল্লিক শামিম আক্তার বলেন,

“বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মকে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মল্লিক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন,

“শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রাক্তন সভাপতি আলহাজ্ব খান আলী আকবার, পিলজংগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার বিল্লাল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরজিত কুমার দাস বলেন,

“শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মনন গঠনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। এই আয়োজন তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।”

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লোকগান ও নৃত্য পরিবেশনা। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রাণ, যা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

দিনভর চলা এই আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত। আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

শাহ আউলিয়ারবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হারিয়ে যাওয়া দেশজ সংস্কৃতি প্রদর্শন ও পিঠা উৎসব, মানুষের ঢল

Update Time : ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

শাহ আউলিয়ারবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হারিয়ে যাওয়া দেশজ সংস্কৃতি প্রদর্শন ও পিঠা উৎসব, মানুষের ঢল

আজিজুল গাজী, জেলা প্রতিনিধি (বাগেরহাট)

বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনের হারিয়ে যেতে বসা স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাগেরহাট জেলার শাহ আউলিয়ারবাগ মল্লিক মহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে হারিয়ে যাওয়া দেশজ সংস্কৃতি প্রদর্শন ও পিঠা উৎসব, যা একসময় পরিণত হয় ছাত্র–শিক্ষক–অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মিলনমেলায়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মল্লিক শামিম আক্তারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সকল শিক্ষকের আন্তরিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে মোট পাঁচটি স্টল স্থাপন করা হয়। প্রতিটি স্টলের দায়িত্বে ছিলেন একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল। এই যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষক–অভিভাবক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

স্টলগুলোতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা—চিতই, পাটিসাপটা, ভাপা, দুধচিতা, পুলি, নকশি পিঠাসহ নানা ধরনের লোকজ খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি পুরনো দিনের কৃষি উপকরণ, গ্রামীণ আসবাবপত্র ও লোকজ সামগ্রী প্রদর্শিত হয়, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।

আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মল্লিক শামিম আক্তার বলেন,

“বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মকে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মল্লিক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন,

“শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রাক্তন সভাপতি আলহাজ্ব খান আলী আকবার, পিলজংগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার বিল্লাল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরজিত কুমার দাস বলেন,

“শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মনন গঠনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। এই আয়োজন তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।”

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লোকগান ও নৃত্য পরিবেশনা। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রাণ, যা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

দিনভর চলা এই আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত। আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন