গাজীপুর , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নিয়ামতপুরে দুর্যোগ সহায়তা: ঢেউটিন ও অনুদান বিতরণ কালিহাতীতে বাস-সিএনজি দুর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু, শোক টাঙ্গাইলে চট্টগ্রামে ব্যাংক বিক্ষোভ: ৫ ব্যাংকের শাখায় তালা, গ্রাহকদের উত্তেজনা তেঁতুলিয়ায় চুরি গরু উদ্ধার, আটক ইউপি সদস্যের ভাই পূবাইল চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও, এলাকায় তোলপাড় মসজিদে সেজদায় বৃদ্ধ মুসল্লি খুন, শ্রীমঙ্গলে ঘাতক আটক রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও কর্মসূচি ঘোষণা নগরকান্দায় স্বর্ণালংকার চুরি: সালিস নিয়ে অপপ্রচার হবিগঞ্জে গণমাধ্যম দিবসে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ভোটের হাওয়া

মধুপুর রাবার বাগান উচ্ছেদ অভিযান: আদিবাসী পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৪৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার মো:দেলোয়ার হোসেনের টাঙ্গাইলের মধুপুরে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (বশিউক) চাঁদপুর রাবার বাগানের আওতাধীন বন বিভাগের জমি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কুড়াগাছা ইউনিয়নের ধরাটি ও কালাপাহাড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রমেন মাংসান নামে এক দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের বসতভিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী, ফলজ বাগান এবং নির্মাণাধীন ঘরের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমেন মাংসান দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি সেখানে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে, বাগান কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। অভিযোগ, তিনি কর্মকর্তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের আগে কোনো লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়নি, কেবল মৌখিকভাবে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রমেন মাংসান (৬৫) অভিযোগ করেছেন, “আমি আমার পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ের পরিবার নিয়ে এই জমিতে গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছি। পাঁচ বছর আগে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার গাছ রোপণ করেছিলাম এবং সবজি বাগান করেছি। বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। ঘর নির্মাণের জন্য আমি কাঠ ও মাটি ব্যবহার করছিলাম। আজ হঠাৎ রাবার বাগানের কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রধারী আনসার সদস্যরা আমাদের বসতভিটার ওপর অভিযান চালিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা ক্ষতিপূরণ ও বিচার চাই।”

চাঁদপুর রাবার বাগান বশিউকের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান জানান, বন বিভাগের নীতিমালা অনুসারে বনের জায়গা ও সম্পদ জবরদখল রোধে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, “বনের জায়গা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। উচ্ছেদ অভিযানে দখলদারদের কিছুটা ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। ঘর নির্মাণের চেষ্টা করায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় আদিবাসীরা অভিযোগ করেছেন, মধুপুর বন ও রাবার বাগান এলাকায় শত শত একর জমি প্রভাবশালীরা দখল করেও বশিউক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একাধিক অধিকারকর্মী মনে করছেন, একজন দরিদ্র আদিবাসীর ওপর অভিযান চালানো হয়েছে, যা ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশির দশকে গজারী বন কেটে তৈরি এই রাবার বাগান বর্তমানে অলাভজনক হওয়ায় অনেক জায়গায় অবৈধভাবে কলা ও আনারস চাষ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো আইনি নোটিশ ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মধুপুরের আদিবাসী জনপদের এই ঘটনার পর নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বন ও রাবার বাগান সংক্রান্ত যেকোনো উচ্ছেদ কার্যক্রমে দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ নোটিশ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নিয়ামতপুরে দুর্যোগ সহায়তা: ঢেউটিন ও অনুদান বিতরণ

মধুপুর রাবার বাগান উচ্ছেদ অভিযান: আদিবাসী পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Update Time : ০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার মো:দেলোয়ার হোসেনের টাঙ্গাইলের মধুপুরে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (বশিউক) চাঁদপুর রাবার বাগানের আওতাধীন বন বিভাগের জমি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কুড়াগাছা ইউনিয়নের ধরাটি ও কালাপাহাড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রমেন মাংসান নামে এক দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের বসতভিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী, ফলজ বাগান এবং নির্মাণাধীন ঘরের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমেন মাংসান দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি সেখানে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে, বাগান কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। অভিযোগ, তিনি কর্মকর্তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের আগে কোনো লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়নি, কেবল মৌখিকভাবে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রমেন মাংসান (৬৫) অভিযোগ করেছেন, “আমি আমার পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ের পরিবার নিয়ে এই জমিতে গত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছি। পাঁচ বছর আগে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার গাছ রোপণ করেছিলাম এবং সবজি বাগান করেছি। বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। ঘর নির্মাণের জন্য আমি কাঠ ও মাটি ব্যবহার করছিলাম। আজ হঠাৎ রাবার বাগানের কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রধারী আনসার সদস্যরা আমাদের বসতভিটার ওপর অভিযান চালিয়ে সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা ক্ষতিপূরণ ও বিচার চাই।”

চাঁদপুর রাবার বাগান বশিউকের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান জানান, বন বিভাগের নীতিমালা অনুসারে বনের জায়গা ও সম্পদ জবরদখল রোধে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, “বনের জায়গা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। উচ্ছেদ অভিযানে দখলদারদের কিছুটা ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। ঘর নির্মাণের চেষ্টা করায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় আদিবাসীরা অভিযোগ করেছেন, মধুপুর বন ও রাবার বাগান এলাকায় শত শত একর জমি প্রভাবশালীরা দখল করেও বশিউক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একাধিক অধিকারকর্মী মনে করছেন, একজন দরিদ্র আদিবাসীর ওপর অভিযান চালানো হয়েছে, যা ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশির দশকে গজারী বন কেটে তৈরি এই রাবার বাগান বর্তমানে অলাভজনক হওয়ায় অনেক জায়গায় অবৈধভাবে কলা ও আনারস চাষ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো আইনি নোটিশ ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মধুপুরের আদিবাসী জনপদের এই ঘটনার পর নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বন ও রাবার বাগান সংক্রান্ত যেকোনো উচ্ছেদ কার্যক্রমে দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ নোটিশ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।